
শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তর :
নদীতে ইলিশ সহ সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মতলব উত্তর উপজেলার পদ্মা মেঘনায় এর যেন কোন বালাই নেই। মেঘনার পাড়ে প্রকাশ্যে বসছে ইলিশের হাট। আর রাতে জেলেরা অবাধে শিকার করছে সেই ইলিশ মাছ। মা ইলিশ রক্ষাকারী সেই উপজেলা টাক্সফোর্সও যেনো ঢিমেতাল। তাদের বক্তব্য, এখানকার জেলেরা মারমুখী।
খোঁজখবর ও সরেজমিনে ঘুরে দেখাযায়, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ১ কিলোমিটার উত্তরে ধনাগোদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কুমারখোলা নামক স্থানে মেঘনা নদীর তীরে নৌ পুলিশের স্পিডবোর্ড সংরক্ষণের স্থান। সেখানেই প্রতিদিন ভোরবেলা এবং সন্ধ্যার পর নিয়মিত বসছে ইলিশের হাট।
পুলিশ ফাঁড়ির ১ কিলোমিটার দক্ষিণে নয়াকান্দি বটতলা নামক স্থানে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়েও সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলা বসছে ইলিশ হাট। প্রকাশ্যে ইলিশের বেচাকেনা। এই দুই স্থানের মেঘনা নদীর পাড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক জাল ভর্তি নৌকার দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে নদীতে মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ সময়ে । এখানকার জেলেরা প্রকাশ্যেই নৌকায় বসে বসে মাছ ধরার পর জালে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করছে এবং পরবর্তীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। জেলেদের এই বেপরোয়া অবস্থা দেখে এই অঞ্চলে ইলিশ সহ সকল মাছ ধরার উপর যে ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে তা বুঝার কোন উপায়ই নেই।
অন্যদিকে, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে একলাশপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন স্থানে চলছে অস্থায়ী দু’টি ইলিশের আড়ৎ। আর এই আড়ৎ চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের এক ছাত্রনেতা।
এছাড়াও মেঘনা নদীর পূর্বপাড়ের বাহাদুরপুর, জনতা বাজার, বাবুবাজার, ছটাকী বাজার সহ কয়েকটি বাজারে প্রকাশ্যে ইলিশ বেচাকেনার খবর পাওয়া যায়।
উপজেলার মূল ভূখণ্ডের পূর্বপাড়েই যেখানে উপজেলা টাক্সফোর্স চাইলেই কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর হচ্ছে অভিযান করতে পারে সেখানেই ঢিমে তাল । কিন্তু মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড় যেখানে অভিযানে গেলে পদে পদেই প্রতিবন্ধকতা, পুলিশ ও সাংবাদিকের উপর হামলা হয় সেই চরউমেদ, বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর, চরওয়েষ্টার সহ চলাঞ্চল থাকছে উপজেলা টাক্সফোর্সের অভিযানের একেবারেই বাইরে। টাক্সফোর্সের মন্তব্য, চরাঞ্চালের জেলেরা খুবই বেপরোয়া।
খোজখবর মতে, চরাঞ্চলের জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে নির্দ্বিধায়। নেই কোন প্রতিবন্ধকতা। এমনকি অন্যান্যবারের মতো এবারেও চরাঞ্চলে বসেছে ৫’এর অধিক ইলিশ বিক্রির আড়ৎ। এচাড়াও স্থানীয় প্রতি ঘরেই বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ সংরক্ষণের জন্য রয়েছে একাধিক ডিপ ফ্রিজ।
উপজেলার মেঘনা নদীর মূল ভূখণ্ড পূর্বপাড় ও চরাঞ্চলের পশ্চিম পাড়ে ইলিশেরহাট ও ইলিশের আড়ৎ ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফেরি করে ইলিশ বিক্রির দৃশ্যতো প্রতিনিয়তই।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে মেঘনা পাড়ের কয়েকজন জেলে জানান, তারা স্থানীয় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সাথে রফা দফা করেই মাছ শিকারে নেমেছেন।
কথা হলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি এবং মেঘনা নদীর পাড়ের ৩টি স্পটে নিয়মিত ইলিশ বিক্রি করার ঘটনা মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমীন জানেন বলে স্বীকার করেন। তবে তার নৌ সীমানার চরউমেদ, বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর, চরওয়েষ্টার অঞ্চলের মেঘনা নদীতে নিয়মিত ইলিশ শিকার ও তীরে ইলিশের হাট ও আড়ৎ বসার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়টি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, এরা নদীর পাড়ে ট্রলারের (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) মধ্যে রেখেই ইলিশ বিক্রি করে। একটা ট্রলার ধরলে অন্য ট্রলারগুলো দ্রুত নদীর মাঝে চলে যায়। জেলেরা ডাবল চ্যালেঞ্জার ইঞ্জিনের ট্রলার ব্যবহার করার কারণে মাছ বিক্রি ও মাছ ধরার সময় এদেরকে ধরা অনেক কঠিন। তাছাড়া, অভিজানের জন্য আমরা কোন স্পিডবোটও পাই নেই।
উপজেলা টাক্সফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, কিছু প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আমরা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।
মন্তব্য করুন