
সুজন চৌধুরী :
সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুর জেলাতেও দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট। বেশ কয়েকদিন যাবত বহিঃবিশ্বে যুদ্ধ চলার কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে তেলের ডিপো কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুপাতে জ্বালানি তেল পাচ্ছে না।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন তেলের অপেক্ষায়। কোন কোন ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের সাথে ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে। বেশ কিছু যানবাহনের মালিকরা জানায়, আমরা দীর্ঘ প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কোন প্রকার তেল পাচ্ছি না। আবার অনেক মোটর সাইকেল চালকদেরকে এবং অন্যান্য যানবাহন চালকদেরকে তেল না নিয়েই ফিলিং স্টেশন ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর নতুন বাজার যমুনা অয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ নুর এ আলম রুবেলের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমাদের ডিপোতে কোন প্রকার তেলের সংকট নেই। আমরা আগেও যা দিয়েছি বর্তমানেও তাই দিচ্ছি। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে কি কারনে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে তা আমরা বোধগম্য নয়। তিনি আরো জানান, আমাদের এখান থেকে গতকালও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে অকটেন ৩১৫০০ লিটার, পেট্রল ২৪৭০০ লিটার এবং ডিজেল ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯০০ লিটার। আমাদের এখানে কোন প্রকার তেলের ঘাটতি নেই। যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে ৬টি পেট্রোল পাম্পে তেল দেয়া হয়। এছাড়া আউটলেট যা কিনা লাইসেন্স প্রাপ্ত ডিলারদের সংখ্যা রয়েছে ১৫টি। আমরা পেট্রোল পাম্প এবং আউটলেটে পেট্রোল ১১০ দশমিক ৩৫ টাকা এবং ডিজেল ৯৬ দশমিক ৩৯ টাকা দরে দিয়ে থাকি।
মেঘনা অয়েল ডিপো ইনচার্জ মোহাম্মদ জাফর জানান, তিনি গতবছর মার্চ মাসে যে পরিমাণ তেল ফিলিং স্টেশনে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে ঠিক সেই পরিমাণ তেল আমরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে সাপ্লাই করে আসছি। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ২হাজার থেকে ৩০ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, গতবছরের তুলনায় এ বছর যানবাহন বেড়েছে অন্যদিকে জনগণ কৃত্রিম সংকটের কারণেও উক্ত তেলের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা যথাযথভাবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল দিয়ে আসছি। আমাদের এখানে কোন প্রকার তেলের সংকট নেই।
শহরের বাসস্ট্যান্ড আমির ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাড়ির চালকরা তেল নেয়ার জন্য। এ ব্যাপারে আমির ফিলিং স্টেশন এর ম্যানেজার মোহাম্মদ ইলিয়াস খানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, পদ্মা ওয়েল কোম্পানি থেকে কোন প্রকার অকটেন দিচ্ছে না। গত ২৫/০৩/২০২৬ থেকে অদ্যবধি আমাদেরকে অকটেন দিচ্ছে না। যার ফলে আমরা যে সমস্ত গাড়ি অকটেনে চলে তাদেরকে আমরা দিতে পারছি না। বিশেষ করে সরকারি সংস্থার যে সমস্ত গাড়িগুলো রয়েছে তার সবগুলি অকটেনে চালাতে হয়। তার মধ্যে রয়েছে সিভিল সার্জন, সদর হাসপাতাল, নৌ পুলিশ ফারি, জেলা জজ, ডিসি অফিস, পিবিআই, এনএসআই কোস্ট গার্ড সহ সরকারি ৭০ টি সংস্থার গাড়ি ও যানবাহন। কিন্তু আমরা ঐ সমস্ত গাড়িগুলোকে কোন প্রকার তেল দিতে পারছিনা। যার ফলে অকটেল না থাকার কারণে পেট্রোল দিয়ে গাড়ি চালানো হয় কিন্তু এতে করে গাড়ির ইঞ্জিনের সমস্যা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার মোঃ রাশেদুল আলমের সাথে কুমিল্লা ফোনে আলাপ কালে তিনি জানান, বৈশ্বিক সমস্যার কারণে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা সম বন্টন করে তেল দেয়া হচ্ছে সে ক্ষেত্রে অকটেন দেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন শহর এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ অকটেন দেয়া হয়েছে কিন্তু ৫ দিন যাবত অকটেন দেয়া বন্ধ ছিল। তবে আজ থেকে আমরা অকটেন দেয়া শুরু করেছি।
অন্যদিকে ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল থাকলেও পেট্রোল ১৩/০৩/২০২৬ থেকে বন্ধ রয়েছে। সেখানেও চাহিদা থেকে ৩০% জ্বালানি তেল কম দেয়া হচ্ছে। ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত যানবাহন। পরবর্তীতে প্রায় পৌনে একটার দিকে বেশ কিছু তেল নিয়ে একটি গাড়ি আসলে সেখান থেকে তেল দেয়া শুরু করেন।
যে সমস্ত গাড়ি ও মোটর সাইকেল রাস্তায় চলাচল করে তাদেরকে বেশিরভাগ বিপাকে পড়তে হচ্ছে। একদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকট, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একদিকে ব্যয় হচ্ছে সময় অন্যদিকে ফিলিং স্টেশন থেকে দাঁড়িয়ে থেকে হতাশা হয়ে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।
মন্তব্য করুন