
সুজন চৌধুরী :
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে ৩৪তম আন্তজার্তিক এবং ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সরকারি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আজকে মায়েদের একটি স্বীকৃতির দিন। যে মায়েরা এ স্বর্ণ সন্তানদের জননী তাদেরকে স্যালুট দিতে চাই। আপনি আজকে স্পেশাল একজন মা। আজকের দিবস আপনার সন্তানের জন্যে পালন হচ্ছে। জেলা প্রশাসক চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, চাঁদপুরের কিছু চন্দ্র সন্তান অবশ্যই আছে যারা গাছের তলায় বসেও কিছু করতে চায়। আপনাদের মধ্যে অনেকেই যারা কিছু না কিছু করতে চান। আপনারা এদের জন্যে কিছু করবেন।
তিনি আরো বলেন, এমনও অনেকে আছেন যারা একবেলার খাবার দিয়ে আরেরেকজনের বাঁচার চিন্তা করেন। নিজের মনকে বড় করতে হবে।
আপনি আমি অনুভূতি ফিল করতে পারি। কিন্তু তারা তা পারে না। এসব সন্তানদেরকে শুধু অর্থ দিয়ে নয়, মন দিয়ে আদর করেন, জরিয়ে ধরেন, দেখবেন নিজের কাছে ভালো লাগবে। এই শিশুরা ভালোবাসার কাঙ্গাল। তাদেরকে ভালোবাসা দিবেন, আদর করবেন। দেখবেন পরদিন আপনাকে দেখলে দৌঁড়ে আসবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আজকে যারা প্রতিবন্ধী রয়েছে তারা এই পৃথিবী জয় করতে চায়, বিশ্বকে স্পর্শ করতে চায় কিন্তু তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়, তাদের আরেকটি হাত প্রয়োজন হয়। আমি বলব, চাঁদপুরের অসংখ্য বিত্তবান লোক রয়েছেন আমি তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা প্রতিবন্ধীদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন, আর্থিকভাবে অথবা হুইল চেয়ারের মাধ্যমে যে যেভাবে পারেন আপনারা এই সমস্ত শিশুদের সহযোগিতা করুন। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র সমাজ কল্যাণ আর তার অধিদপ্তর করলেই হবে না।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমি আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। আমরা দুটা জিনিস পাশে নিয়ে চলি, ভালো ও খারাপ। একজন হাফেজকে দেখলে আমার হিংসা হয় এবং গর্ববোধ করি। কারণ উনি যেটা করেছেন আমি ডিসি হয়েও সেটা পারিনি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীর, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী। আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন নন্দী।
প্রতিবন্ধীদের মধ্যে বক্তব্য দেন কামাল মিজী, মো. সফিউল্লা। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে কবিতা ও মূখ্য অভিনয় করেন নুরজাহান প্রমূখ।
আলোচনা সভার পূর্বে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালিটি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশ ঘুরে আলোচনা সভায় এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচনার মাঝে সরকারি শিশু পরিবার ও বাক শ্রবণ শিশুর পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
মন্তব্য করুন