
সুজন চৌধুরী :
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে দাবি আদায়ের আন্দোলন। ইদানিং দেখা যাচ্ছে যখনই বার্ষিক পরীক্ষা অথবা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়, ঠিক তার আগেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলে প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকারা আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করে তারা রাস্তায় নেমে যায়। তাদের একটাই কথা, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মস্থলে ফিরে যাব না। অথচ বর্তমানে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে বার্ষিক পরীক্ষা। যার কারনে শিক্ষকদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আর অভিভাবকরা পড়ছে বিপাকে।
শিক্ষক আন্দোলন বর্তমানে একটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে এবং এই সমস্ত আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে লাঠিচার্জ করলে সেটা নিয়েও বর্তমানে ইস্যু তৈরি করে আন্দোলনকে জাগ্রত করে তোলে। এভাবে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে একের পর এক আন্দোলন বা কর্মসূচি দিয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। আগামীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সঠিক লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে পড়বে। শিক্ষকদের এই আন্দোলন দেখে এক রকম অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
অভিভাবকদের সাথে আলাপ করলে তাঁরা বলেন, আমাদের সন্তানরা সারা বছর লেখাপড়া করে যখনই বার্ষিক পরীক্ষার সময় আসে, ঠিক তার আগ মুহূর্তে শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ব্যস্ত থাকে। একদিকে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে পারছি না। অন্যদিকে, তারা নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়া নিয়েও আমরা চিন্তিত।
অভিভাবকরা আরো জানান, তারা আন্দোলন করবে তাদের নিয়ম অনুযায়ী এবং তাদের দাবি তারা আদায় করবে- এটা আমরা মানি। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষার সময় কেন তারা এই আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামবে। এটা আমরা বুঝতে পারছি না। অভিভাবকরা আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশে কোন নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বেকাদায় ফেলার জন্যই একের পর এক আন্দোলন করে যাচ্ছে। যেটা আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে আশা করছি না।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সাথে আলাপ করে তিনি জানান, আমাদের ৪টি দাবি নিয়ে বর্তমানে আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছি। তার মধ্যে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে। দীর্ঘ প্রায় ৬দিন যাবত আমাদের কর্মসূচি পালন করে আসছি। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ৮টি সংগঠন একত্রিত হয়ে এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সহকারি শিক্ষকদের দশম গ্রেড, ১০/১৬ বছর পূর্তিতে শিক্ষকদের আপডেট পাওয়ার কথা থাকলো তা করা হয়নি, সরকারি শিক্ষকদের প্রমোশন শতভাগ করা। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সংগঠন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ উক্ত আন্দোলনের ডাক দেয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা বিভিন্ন গ্রুপে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে জানিয়ে থাকি। সরকার ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও বর্তমানে তা প্রজ্ঞাপন জারি না করার কারণে আমরা গতকাল মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।
গতকাল বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, এটা উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের অনুরোধক্রমে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তবে যেহেতু প্রধান শিক্ষকদের কোন দাবি দাওয়া না থাকার কারণে সহকারী শিক্ষক/ শিক্ষিকারা উক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে তারা তাদের কর্মবিরতি পালন করছেন। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক তাদের দায়িত্বে পরীক্ষা নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তাদের পরীক্ষা চলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আইনুর রহমান জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের সম্মানার্থে আমরা আমাদের পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে আমাদের শিক্ষক কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ১ ডিসেম্বরের বাতিল পরীক্ষাটি আমরা পরবর্তীতে নিবো, যাতে করে কোন শিক্ষার্থী পিছিয়ে না পড়ে।
মন্তব্য করুন