
সুজন চৌধুরী :
বাংলাদেশে হারিয়ে গেছে এক ঐতিহ্যের নাম ডাক পিয়ন। যাকে নিয়ে অনেক কবি কবিতা লিখেছেন অনেক শিল্পী তাদের নিয়ে গেয়েছেন গান। কোন এক সময় ছিল মানুষের তথ্য আদান-প্রদানের একমাত্র বাহন চিঠি। একটি চিঠির জন্য বসে থাকতে হতো দিনের পর দিন মাসের পর মাস। চিঠি লিখলে তার উত্তরের আশায় বসে থাকতে হতো যত দিন না পর্যন্ত হলুদ খাম না আসতো।
খাকি কালারের ড্রেস পরা যারা চিঠি বিলি করতেন তাদের অপেক্ষায় অনেকেই বসে থাকতো অথবা দেখা হলে জিজ্ঞেস করত ভাই আমার কোন চিঠি আছে আবার অনেকে জিজ্ঞেস করত ভাই আমার কোন মানি অর্ডার আসছে। কতশত স্মৃতি বিজড়িত এই ডাক পিয়নদের নিয়ে অথচ আজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সেই খাঁকি পোশাক ধারী ডাক পিয়ন। বর্তমানে অনেকে জানিনা ডাক পিয়ন বা চিঠি বিলিকারক হিসেবে কেউ ছিল।
এ যেন ডিজিটালের কাছে সবই হার মেনেছে হারিয়ে গেছে কোন এক সময়ের ঐতিহ্য। আগে বিভিন্ন এলাকায় গেলে দেখা যেত বিভিন্ন বাড়িতে ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে পোস্ট অফিস এবং বিভিন্ন স্থানে লাল একটি বাক্স ছিল সেখানে লেখা ছিল এখানে চিঠি ফেলুন। বর্তমানে এসবের কিছুই এখন আর দেখা যায় না এসব ঐতিহ্য এখন শুধুই অনেকের কাছে স্মৃতি।
কোন এক সময় দেখা গেছে ছেলে দেশের বাহিরে গেছে কোন প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে শুধুমাত্র চিঠির উপরে নির্ভর ছিল তার ভালো-মন্দ জানার অথচ আজ আমরা ডিজিটাল এর কারণে অনেকটাই উপকৃত হয়েছি তবে কিছু স্মৃতি আমাদের মাঝে থেকেই যাবে যারা আমরা এই সমস্ত নীল খাম এবং খাকি কালারের ড্রেস পরা সেই ডাক পিয়ন অথবা চিঠি বিলি কারক দের কে দেখেছি।
বর্তমানে এখন আর আমাদের চিঠির অপেক্ষায় থাকতে হয় না কোন প্রকার মানে অর্ডারের জন্য অপেক্ষা থাকতে হয় না সবকিছু এখন আমাদের হাতের নাগালে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পোস্টমাস্টার এ এস এম ফজলুল আমিন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান বর্তমানে আমাদের পোস্টমেন ১০ জন স্থায়ী পদ থাকার কথা কিন্তু বর্তমানে একজনও নেই তবে ৩ জন ডেইলি বেসিক লোক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে । কোন প্রকার নিয়োগ প্রক্রিয়া না থাকার কারণে আমরা উক্ত ডেইলি বেসিক লোক দিয়ে বিভিন্ন অফিস আদালতের চিঠি এবং বিভিন্ন পার্সেল ও ব্যক্তিগত চিঠি আদান-প্রদানের কাজ চলছে।
তিনি আরো জানান ডিজিটাল হওয়ার কারণে আমাদের চিঠির আদান-প্রদান টা অনেকটাই কমে গেছে সে কারণে সরকার কোন প্রকার নিয়োগ প্রক্রিয়া দিচ্ছে না যে সমস্ত চিঠি বিলি করকের পথ শূন্য হয়েছে ঐ সমস্ত পদে এখন আর লোক না নেওয়ার কারণে আমাদেরকে কোন রকম ভাবে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন