

স্টাফ রিপোর্টার :
পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের দর্জিঘাট এলাকার মোল্লা বাড়ীতে বসবাস করছেন দিনমজুর ভ্যানচালক আমান ছৈয়াল। গেল ২০ অক্টোবর রাত ২ টায় হঠাৎ করে কোন উত্তর ছাড়াই আমানকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সকালে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে থানায় হাজির স্ত্রী ও স্বজনেরা। পুলিশের ওসির কাছে কাকুতিমিনতি করেও উপায়ন্ত পায়নি পরিবার। পরে জানতে পারে তাকে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ১৮৫ নম্বর আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অথচ এই মামলার ১৮৫ নম্বর আসামী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমান। শুধু মাত্র নামের মিল আর পুলিশের ভুলের কারনে গেলো ১ মাস যাবত জেলহাজতে ভ্যানচালক নিরপরাধ আমান।
ভ্যানচালক আমানের স্ত্রী ও স্বজনরা জানান, কথা বলার নাম করে আমানকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ভোটার আইডি কার্ড চায় পুলিশ। এরপর তাকে দেওয়া হয় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলার আসামী। আইনের মানুষ হয়ে পুলিশ মুল আসামীকে না ধরে নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।
ভ্যানচালক আমানের আয়ের বাহন ভ্যানগাড়িটি এখন পড়ে আছে গ্যারেজে। আর আমান বন্ধী কারাগারে। অথচ মুল আসামী ছাত্রলীগ নেতা আমান পলাতক। এদিকে ভ্যানচালক আমানের স্ত্রী এখন সন্তানদের মুখে আহার যোগাতে বাসা-বাড়ীতে কাজ করছে। শুধুমাত্র জামিন নয়, মামলা থেকে অব্যহতি চান তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
মামলার নথিপত্র দেখে জানান গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলার ১৮৫ তম আসামী আমান, পিতা আবদুর রশিদ- এমন ঠিকানায় পরিচয় মিললেও এলাকায় গিয়ে পাওয়া যায়নি তাকে। সে জেলা ছাত্রলীগের সাথে উঁতপোঁতভাবে জড়িত ছিলেন। এখন রাজনৈতিক মামলার আসামী হয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক বলছেন এলাকার বাসিন্দা।
আসামী আমানের বাড়ির একজন জানান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), আমান রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক। একই মামলায় আমানের ভাই আমানতকে পুলিশ আটক করে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না পেয়ে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু নিরপরাধ ভ্যানচালক আমানকে ছাড়েনি পুলিশ।
পলাতক বলছেন এলাকার বাসিন্দা। আসামী আমানের বাড়ির একজন জানান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), আমান রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক। একই মামলায় আমানের ভাই আমানতকে পুলিশ আটক করে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না পেয়ে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু নিরপরাধ ভ্যানচালক আমানকে ছাড়েনি পুলিশ।
এদিকে নামের ভুলে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি বা নাগরিক সাজা পাওয়াটা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলছেন চাঁদপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাডভুকেট সেলিম আকবর।
তবে বিষয়টি পুন:তদন্ত করে আমান জড়িত না থাকলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেয়া ও অব্যহতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও একই নামের আর কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া।
আর ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অ্যাপস) মো. লুৎফর রহমান।
মন্তব্য করুন