
স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার যোগদানের প্রথম দিন তেল মনিটরিং কমিটি, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটি ও জেলা পন্য বিপনন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সভায় সভাপতিত্বের মধ্য দিয়ে প্রথম কর্মদিবস শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমি গাজীপুরের ছেলে চাঁদপুর এসেছি, আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলে ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুরকে চাঁদনগরে রুপান্তর করা সম্ভব। আমি আজ ফজরের নামাজ পড়ে পুরো শহর দুই ঘন্টা ঘুরেছি, দেরশতাধিক ছবি তুলেছি। পৌরসভা কাজ করছে তবে তা চোখে পড়ার মতো মনে হলো না, জনসাধারণের চলাচলের প্লেসগুলো সংকীর্ণ।
সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখি রোগীর বেডের পাশে রক্তের ব্যাগ পরে আছে। শিশু একাডেমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম ভবনটিতে ঘাস জড়িয়ে আছে। প্রাথমিক অধিদপ্তরের গেইটটি দেখে মনে হলো প্রধান কর্মকর্তাই শুধু এ গেইট দিয়ে প্রবেশ করবেন। আমি যে কদিন আপনাদের জেলায় কাজ করবো, সে সময়ে আমার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিতে কোন বাঁধা নেই। আমার জেলা প্রশাসন কম্পাউন্ডে ভাসমান দোকান ও হকার থাকতে পারবে না।
এনসিডিকে বলেছি, খুব দ্রুত সময়ে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে। দরকার হলে এসকল ভাসমান হর্কারদের জন্য কোন বাজারে ১০টি দোকানের ব্যবস্থা করবো। এখানে অনেকই আছেন যাদের নাতির বয়সী ছেলেটি সেদিন বুক পেতে দিয়েছি রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের জন্য। আমরা সেই পরিবর্তণের জন্য কাজ করে যাবো। রাষ্ট্রের মহান দায়িত্ব পালন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর, সামনেই সেই মহান দায়িত্ব নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার, চেম্বার অব কর্মার্স, ক্যাব ও হোটেল রেস্তেরা আপনারা যদি সরকারি দপ্তরগুলোকে সহযোগিতা করলে, সুন্দর চাঁদপুরকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। আপনারা এখানে যারা উপস্থিত রয়েছেন। আপনারা একেকজন একাধিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাই আপনাদের সাথে আমার সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে।
ব্যক্তি পরিচয় তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, আমার বাড়ি গাজীপুর আর শ্বশুড়বাড়ি পাবনা। এ দুই জেলা ছাড়া সকল জেলায় যেতে আমি প্রস্তুত। আমার বাবা বেঁচে নেই, মা জীবিত আছেন। আজকের এ সভায় অনেকেই রয়েছেন আমার বাবার বয়সী। আমি ১৪ বছরে ১৭টি ইউনিটে কাজ করেছি।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ৬ মাসের অধিক কাজ করেছি। আমি চাঁদপুরে চারটি ব্রিফকেস নিয়ে এসেছি। আমি এ চারটি ব্রিফকেস নিয়েই চাঁদপুর থেকে যেতে চাই। আমি আমার স্ত্রীকে বলেছি, আগামী এক বছর মনে করবে আমি বিদেশ চলে গেছি। আজ ফজরের নামাজ পরে চাঁদপুর পরিক্রমা করেছি, যেদিন যাবো সেদিনও নামাজ আদায় করে বিদায় নিব।
সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ এরশাদ উদ্দিন। সভায় বিগত সভার কার্যকরি বিবরণী পাঠ করেন এনডিসি আনিসুর রহমান।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খাইরুল কবির, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জ্যোর্তিময়, ভোক্তা অধিদপ্তর সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, কৃষি বিপনন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর এসএম নজরুল ইসলাম, বিএসটিআই কুমিল্লা অঞ্চলের পরিদর্শক শাকিল হোসেন, চাঁদপুর চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, পরিচালক গোপাল সাহা, পরেশ মালাকার, নাজমুল পাটওয়ারী, জেলা ক্যাবের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্যা খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বিপ্লব সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিত রায়, রেঁস্তোরা মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী নুরুল আলম লালু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ আখন্দ, যুগ্ম সম্পাদক মাইনু আখন্দ, চাঁদপুর পৌরসভার স্যানেটারী ইন্সপেক্টর বেলায়েত হোসেন, কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অয়েল ডিপোর ম্যানেজারগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন