
আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফরিদগঞ্জ :
ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাত দল অন্তত ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, ৫০ হাজার টাকা ও একটি ফোন লুটে নিয়েছে। ঘটনার সময় গৃহকর্ত্রী জেসমিন, কন্যা আলো ও নূরকে রাম দায়ের কোপ, রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত আহত করেছে। আহতরা চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলার পাইকপাড়া (দক্ষিণ) ইউপির বিষুরবন্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে ১২ তারিখ দিবাগত রাত দুই ঘটিকা নাগাদ। খবর পেয়ে, রাত আনুমানিক প্রায় চার ঘটিকা নাগাদ পুলিশ ওই বাড়ি পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গ্রামের প্রবাসী কাজী মিজানুর রহমান। তার পাকা বসত ভবনে থাকেন স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৮), চার মেয়ে মিতু (২০), শান্তা (১৭), আলো (১০) ও নূর (১০)। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ ঘটিকায় সকলে ঘুমিয়ে পড়েন। জেসমিন জানান, রাত আনুমানিক ২ ঘটিকায় ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি ও তার সন্তানকে মারধর করে। এতে, ঘুমের ঘোরে থাকা জেসমিন ও তার সন্তানগণ আতংকিত হয়ে পড়েন। তারা চিৎকার করতে চাইলে রাম দা, ধারালো অস্ত্র, রড, হাতুড়ি ও লোহার নানা রকম যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করেন। অস্ত্রের মুখে চুপ থাকতে নির্দেশ দেয়। তাদেরকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার চায়। গৃহিনী বলেন স্বর্ণ নেই। ডাকাত দল বলে, তোর ঘরে অনেক স্বর্ণ আছে। সেগুলো কোথায় রেখেছিস। এরপর, তারা ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র এলোপাতাড়ি তছনছ করে। এক পর্যায়ে কেবিনেটে থালা বাসনের ভেতরে থাকা প্রায় ছয় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, ৫০ হাজার টাকা খুঁজে পা। তারা, একটি এন্ড্রয়েড ফোনও নিয়ে যায়।
গৃহিণী জানিয়েছেন, আমি ঘুমের ঘোরে চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করি। ওই সময় ডাকাত দল আমাকে রাম দায়ের কোপ দেয়, হাতুড়ি ও ধামা দ্বারা পিটায়। আমার চিৎকার শুনে কন্যারা জেগে উঠে এবং কান্না করে। ওই সময় দুই মেয়েকেও একইভাবে পিটায়। আমার কক্ষে তিনজন ওই তান্ডব চালায়। আমার বড় দুই মেয়ের কক্ষেও তিনজন ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদেরকে জিম্মি করে রাখে। এরপর, তারা লুটপাট চালায়। তারা বলেন, বাইরে অন্তত ৫/৬ জন ডাকাত সদস্য ছিলো, তাদের সঙ্গে, তারা কথা বলেছে। তিনি, আরও জানান, ডাকাত দল প্রথমে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে ফোনের আলো দ্বারা মারধর ও আতংক সৃষ্টি করে। স্বর্ণালংকার না পেয়ে নিজেরাই বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালায়। লুট শেষে, তারা কক্ষে থেকেই ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে এবং সঠিক সংবাদ দিয়েছে বলে ধন্যবাদ জানায়।
প্রায় এক ঘন্টা তান্ডব চালিয়ে যাওয়ার সময় একজন গৃহিনীকে প্রশ্ন করে “ভালো করে দেখো, আমাকে চেনো নি”। জবাবে গৃহিণী বলেন “না, আমি আপনাকে চিনি না”। এরপর, তারা পেছন দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ বছর বয়সী একজন বেশি উত্তেজিত ছিলো। তার মুখে লাল রংয়ের দাড়ি আছে। একজনের মুখে মাস্ক ছিলো। একজন অন্তত ৩৫ বছর হবে, তিনি খাটো মতো, গায়ের রং ফর্সা। অন্যদের বয়স বয়স ৩৫-৪০ বছর হবে।
ডাকাত দল প্রথম সকলের ফোন নিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় একটি রেখে অপরটি দিয়ে যায়। পরে, গৃহিণীর কন্যা মিতু মামাকে কল দেন, রিসিভ হয়নি। পরে, মামানিকে ম্যাসেজ দেন। ওই ম্যাসেজ দেখে তিনি সকলকে জানালে, আশেপাশে থাকা আত্মীয় স্বজন ছুটে যান এবং ঘটনা শোনেন। গৃহিণীর ভাই ফরিদ পুলিশকে কল দিলে, পুলিশ ওই বাড়ি পরিদর্শন করে।
এ বিষয়ে, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেছেন, ডাকাতির ঘটনা শুনে রাতেই পুলিশ ফোর্স গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছে। তাদেরকে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দিতে আসেনি। আমরা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তৎপরতা গ্রহণ করেছি।
মন্তব্য করুন