
সুজন চৌধুরী : জমজমাট এবং কোন এক সময়ের জনপ্রিয় টেলিগ্রাফ অফিসটি কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। কোন প্রকার কার্যক্রম না থাকার কারনে এখন শুধুই স্মৃতি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত চাঁদপুর টেলিগ্রাফ অফিসটি জরাজীর্ণ অবস্থায় মুখ থুবরে পড়ে আছে। অথচ এক সময়ের বিপদের বন্ধু এবং দ্রুত খবরা-খবর আদান-প্রদানের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার হতো টেলিগ্রাফ। বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং ডিজিটাল হওয়ার কারণে অ্যানালগ টেলিগ্রাফ আজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। বর্তমান সময়ের লোকজন বলতেই পারে না টেলিগ্রাফ নামের কোন একটি বাহন ছিল যার মাধ্যমে মানুষ বিপদের সময় এবং কোন দুর্ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছানোর জন্য কাজ করতো।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর শহরের প্রধান পোস্ট অফিসের পাশে ১৩শতাংশ জায়গার উপর পড়ে রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায় এ টেলিগ্রাফ অফিসটি। পুরো অফিসটি ঘুরে দেখা যায় চারপাশে ইট ঝরে পড়ছে এবং দূষণ ময়লা চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখানে এখন ভাসমান লোকজনের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। কোন প্রকার সেফটি বাউন্ডারি বা দেখভালের লোকজন না থাকার কারণে অনেক সময় গভীর রাতে এখানে অসামাজিক কাজ এবং মাদকের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে অনেকেই বেছে নিয়েছে। পুরো এলাকাটি সন্ধ্যার পর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে বিটিসিএল এর সহকারী ব্যবস্থাপনা মোঃ হাসিব আহমেদের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, দীর্ঘ বছর যাবত এই অফিসটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখানে যারা কাজ করতেন ওই সমস্ত লোকজন রিটায়ার্ড হওয়ার পর আর কোন লোকজন নিয়োগ দেয়া হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, উক্ত অফিসের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকার কারণে কোন প্রকার লোকজন নিয়োগ দেয়া হয়নি। বর্তমানে উক্ত অফিসে মিটার রিচার্জ এবং পৌর কর পরিশোধ করা হয় যথারীতি। উক্ত বিলগুলো বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ থেকে করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, টেলিগ্রাফ অফিসের সীমানা প্রাচীরের জন্য ডিজিএম কুমিল্লা বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে উক্ত অফিসে পুরনো আমলের টরে টক্কা ২টি মেশিন রয়েছে যা সম্পূর্ণ অকেজো। পুরাতন মেশিনগুলো অকশনে দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ উক্ত জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় না রেখে এটাকে চাঁদপুর জেলার নাগরিক সেবা কেন্দ্র করার প্রস্তাবনা দিয়েছে।