
মহসীন আলম : চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড রনবলিয়া গ্রামে জমজমিয়া খালের উপর নির্মাণ হয়নি বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ। স্বাধীনতার ৫৫বছর চলে গেলেও বহু প্রতিশ্রুতি বেস্তে অপেক্ষার প্রখর গুনতে গুনতে বিরক্ত ভুক্তভোগী জনসাধারণ। এখন খালের উপর সাঁকো দিয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগী সহ শতশত পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে অনিহা প্রকাশ করছেন। বরাবরের মতো এখনো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রনবলিয়া গ্রামের মফিজ খানের বাড়ির সামনে জমজমিয়া খালের উপর বিশাল একটি বাঁশের সাঁকো। যা দিয়ে রনবলিয়া গ্রামের বিভিন্ন বয়সের শতশত পথচারী যাতায়াত করে। অটো, সিএনজি বা রিক্সার মাধ্যমে গ্রামের বাহিরে বিভিন্ন হাট বাজার, শহর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে এখান দিয়ে বয়ে যাওয়া সহজলভ্য এই পথটি বেশ গুরুত্ব বহন করে আসছে। এই পথ দিয়ে বিভিন্ন আকারের বহু শিক্ষার্থী চলাচল করে। এছাড়া বহু বৃদ্ধ পুরুষ মহিলারাও চলাচল করতে হয়। কিন্ত বহু চওড়া এই খালের উপর লম্বা বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোভাবে পারাপার হচ্ছেন। অনেকে আবার ভয়ে পারাপার হতে পারছেন না। দীর্ঘ কয়েক যুগ যাবত এই সাঁকোটি ব্রীজ করে দেবার জন্য বহু জনপ্রতিনিধি প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায় নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এই সাঁকোটি পরিদর্শন করে ব্রীজ করে দেবার কথা বলেছিলেন। কিন্ত ব্রীজের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো।
সরজমিনে একজন পথচারী মফিজ খান জানান, শিশু, বৃদ্ধরা এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে পারছেনা। বিশেষ করে যেকোনো বয়সের রোগীদের পারাপার করা যাচ্ছে না। এছাড়া এই সাঁকো দিয়ে চলাচলকারীরা প্রতিনিয়ত পারাপার হবার সময় সাঁকো থেকে পড়ে আহত হতে হচ্ছে। এছাড়া বাঁশের সাঁকোটি প্রতি দু’ তিন বছর অন্তর অন্তর পূর্ণঃনির্মাণ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। যা সংগ্রহ করতে চলাচলকারীদের বেশ হিমশিম খেতে হয়। তাই জনগণের দুর্ভোগ লাগবে, জনগুরুত্ব বিবেচনা করে সাঁকোটির স্থানে অতিসত্তর ব্রীজ করার দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ বলেন, আসলে এই এলাকার মানুষ বহু বছর যাবত অনেক কষ্ট করে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। যা অনেক কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা আগে কয়েকবার সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। চেষ্ট করেছি ব্রীজটি নির্মাণের জন্য। কিন্ত কর্তৃপক্ষ এখানে নজর দেয়নি। ফলে মানুষের দূর্ভোগ কমেনি। এ জন্য এ এলাকার জনসাধারণ বেশ হতাশ। তাই আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত স্থানে ব্রীজটি নির্মাণের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
তাই নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগীসহ শতশত পথচারীর দীর্ঘ বহু বছরের দুর্দশা লাগবে এখানে একটি ব্রীজ করার উদ্যোগে গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন পথচারী ও এলাকার জনসাধারণ।