গাজী মমিন,ফরিদগঞ্জ :
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি। তাঁদের বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। এরপর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং কোচিং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশে বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারীর সন্দেহ হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ক্যাশবই ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকার অনিয়ম শনাক্ত করে বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী বিধিমালার ৪.১৭ বিধি অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে চিঠি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট টাকা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তবে তাঁরা চিঠি গ্রহণ করেননি এবং টাকা ফেরতও দেননি বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাঁদের দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারী বলেন, আমরা শুধু বড় অঙ্কের টাকার হিসাব করেছি। ফরিদগঞ্জ থেকে ঢাকা যেতে ২০ হাজার টাকা, ফরিদগঞ্জ থেকে কুমিল্লা যেতে ১০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার মতো অনেক হিসাব আপাতত এড়িয়ে গেছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তাঁরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সোহেল বেপারীর দাবি, ভুয়া মেডিকেল সনদ দিয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম প্রায় নয় মাস প্রবাসে অবস্থান করলেও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বৈধ করেছেন। বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান, জাহিদ ও সোলায়মান পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, হিসাব-নিকাশে গরমিল রয়েছে, এটি সত্য। আগে বিদ্যালয়ে অর্থ কমিটি থাকলেও সেটি কার্যত নামমাত্র ছিল।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ বলেন, আমার নিম্ন গ্রেডের কেউ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারেন না। তাই আমি কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি। কোনো টাকা আত্মসাৎও করিনি।
অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি। আমিও বিদ্যালয়ের একটি টাকাও আত্মসাৎ করিনি। বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি সব হিসাব-নিকাশ দেখভাল করেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা:) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। অনিয়ম হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে বলেছি, বিধি মোতাবেক পরবর্তি সকল কাজ করার জন্য।
প্রতিষ্ঠাতা: ইকরাম চৌধুরী<br>
প্রধান সম্পাদক : মুনির চৌধুরী<br>
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শরীফ চৌধুরী <br>