প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৪, ২০২৬, ১২:৩১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১২:০৭ এ.এম
অন্তঃ কোন্দলের কারণে দীর্ঘ ৬ দিন যাবত বন্ধ ওএমএস’র দোকান! ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় লোকজন

সুজন চৌধুরী :
অন্তঃ কোন্দলের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে চাঁদপুর নতুন বাজার ন্যায্য মূল্যের ও এমএস এর দোকান। দীর্ঘ প্রায় ৬ দিন যাবত বন্ধ রয়েছে মোল্লা স্টোর মহিউদ্দিন ডিলার বিজলী রোড নতুন বাজার ও এম এস এর ন্যায্য মূল্যের দোকানটি।
জানা যায়, সরকার কর্তৃক পরিচালিত ওএমএস দোকান যেখানে আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকা দরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি এবং চাল প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি হারে ক্রয় করতে পারবে। যার বাস্তবায়নে রয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর খাদ্য মন্ত্রণালয়।
এ ব্যাপারে খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুর রহমান খান এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমানে যিনি ডিলার রয়েছেন মহিউদ্দিন তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন বিধায় আমরা উক্ত কেন্দ্রের চাল শহরের বিভিন্ন ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সরকারি মালামাল রাখার কোন উপায় না থাকার কারনে আমরা শহরের বিভিন্ন ডিলারদের মাধ্যমে তা বিক্রি করে আসছি।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুর রহমান খান জানান, দীর্ঘ প্রায় ৬ দিন যাবত ডিলার মহিউদ্দিন আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার চালান না দেয়ার কারনে আমরা নতুন বাজার ডিলারকে কোন মালামাল দিতে পারছি না । এভাবে দীর্ঘদিন থাকলে সরকার নিজস্ব নিয়মে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিবে। তিনি আরো জানান, যিনি প্রকৃত ডিলার তাকে ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে আমরা মালামাল দিতে পারি না। চাঁদপুর শহরে মোট ১৫টি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে ৭৫০ কেজি করে মোট ১৫০ জনকে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ন্যায্যমূল্যের মালামাল দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে নতুন বাজার মোল্লা স্টোর বিজলি রোড দোকানে গিয়ে কোন ডিলারের লোকজন পাওয়া যায়নি এবং এই ব্যাপারে বিভিন্ন স্থান থেকে ওএমএস এর মালামাল ক্রয় করার জন্য লোকজন এসে ফেরত যেতে দেখা যায়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমরা গরীব মানুষ আমরা এখান থেকে চাল নিয়ে কোন রকমে সংসার চালাই। তাও আবার দীর্ঘদিন যাবৎ সকাল থেকে এসে বসে থেকে আমরা আবার ফেরত চলে যাই। এই ডিলারে চাউল এবং আটা দেয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে কোন নোটিশ টানানো হয়নি বা অন্য কোথাও গেলে আমরা পাব কিনা সে ব্যাপারও আমরা জানি না।
গ্রাহকরা আরো অভিযোগ করে বলেন, আমরা এক ওয়ার্ডের লোকজন আরেক ওয়ার্ডে গেলে ভোটার আইডি কার্ড দেখে আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়। যার কারণে আমরা অন্য কোন ডিলারের কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করতে পারি না।
নতুন বাজারের ডিলার মহিউদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমি নতুন বাজার ওএমএস এর ন্যায্য মূল্যের মালামালের ডিলার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছি। কিন্তু উক্ত মালামাল দেয়ার সময় আমার সাথে আরও দুজন পার্টনার যোগ হয় আমাদের সাথে কথা ছিল যে আমরা একসাথে মালামাল বিক্রি করব কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস যাবত আমার যে পার্টনার ছিল তাদের কাছে হিসাব নিতে গেলে তারা আমাকে কোন প্রকার হিসাব না দিয়ে তারা পুনরায় আবার মালামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি এতে অপারগতা স্বীকার করলে তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। যার ফলে আমি উক্ত মালামাল উঠাতে পারছিনা এবং সাধারণ জনগণের মাঝে তা বিক্রিও করতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে, যদি সমঝোতা হয় তাহলে পুনরায় উক্ত ডিলারে চাল দেয়া শুরু হবে।
উক্ত ডিলারের একজন পার্টনারের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, যিনি প্রকৃত ডিলার তার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা চাউল এবং আটা বিক্রির সিদ্ধান্ত করি। আমরা ঠিকঠাক মতো দুমাস দেয়ার পর উক্ত ডিলার মহিউদ্দিন আমাদের কাছে হিসাব চাইলে তাকে আমরা হিসাব দিলে তিনি তাতে অসঙ্গতি জানায় এবং মহিউদ্দিন তিনি একাই উক্ত ডিলার চালাতে সম্মতি প্রকাশ করে।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু আমরা তিনজন একমত পোষণ করে উক্ত ডিলারটি চালানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেই সেখানে আকস্মিকভাবে মহিউদ্দিন একাই তিনি চালাতে চাইছেন। মহিউদ্দিন দীর্ঘ প্রায় ছয় দিন যাবৎ কোন প্রকার মালামালের চালান না দেওয়ার কারণে উক্ত ডিলার কোন প্রকার মালামাল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে একদিকে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ জনগণ এবং খেটে খাওয়া মানুষ।
এখন সাধারণ জনগণের প্রশ্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে সাধারণ লোকজন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা: ইকরাম চৌধুরী<br>
প্রধান সম্পাদক : মুনির চৌধুরী<br>
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শরীফ চৌধুরী <br>
Copyright © 2026 Chandpurdarpan | দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ . All rights reserved.