স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে চাই (ফাঁদ) দিয়ে নিধন হচ্ছে মূল্যবান পাঙাশ মাছের ফোনাসহ অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ। এক শ্রেণির অসাধু মাছ ব্যবসায়ী কিছু জেলেকে দাদন দিয়ে নদীর মাছ ধ্বংস করার জন্য অপচেষ্টায় লীপ্ত রয়েছেন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসারের কার্যালয় ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড চাঁদপুর যৌথভাবে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। ওইদিন রাত ৩ টা থেকে পরদিন শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় একটি পাঙ্গাসের পোনা ধরার চাই এবং ৫ হাজার বরশি জব্দ করা হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জব্দ আনুমানিক ১৩০ কেজি জীবিত পাঙ্গাসের পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। যা থেকে কমপক্ষে ৩ মেট্রিক টন পাঙাশ পাওয়া যাবে। দেশের সম্পদে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা যোগ হবে এই পাঙ্গার বিক্রির টাকায়।
তিনি আরো বলেন, পাঙ্গাসহ দেশীয় প্রজাতির সব ধরণের রেনুপোনা রক্ষায় মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত আছে।
শহরে ঘুরে দেখাগেছে সকাল ও বিকেলে বাজার এবং অলিতে গলিতে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাসের পোনা। এসব পোনা মেঘনা নদী থেকে ধরে এনে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এই পাঙ্গাস বড় হলে প্রতিকেজি বিক্রি হয় ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা। এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের পর মাছের আড়তে এমন চিত্রই দেখাগেছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শীত মৌসুম এলে এক শ্রেণি অসাধু জেলের দের মতলব উত্তর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ থেকে চাঁদপুর মেঘনায় ছোট মাছ ধরার জন্য অবৈধ ও নিষিদ্ধ জালসহ নিয়ে আসেন সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র। তাদের সাথে অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরাও জড়িত।
মেঘনা উপকূলীয় এলাকার সচেতন মহল ও প্রকৃত জেলেদের দাবী- প্রশাসন অনুসন্ধান করে এসব সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনলে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জাতীয় সম্পদ ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষা হবে।
প্রতিষ্ঠাতা: ইকরাম চৌধুরী<br>
প্রধান সম্পাদক : মুনির চৌধুরী<br>
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শরীফ চৌধুরী <br>