আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফরিদগঞ্জ :
ফরিদগঞ্জে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিটি গ্রুপের কর্মচারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার নাম রুহুল আমিন (৩৫)। মার্কেট থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফের পথে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় এ ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় সমিতির ব্রীজ এলাকায। নিহতের পরিবার সদস্য ও বিক্রয় সংগঠনের নেতারা বিকালে এক মানববন্ধনে বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের ফাঁসীর দাবী করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, রুহুল আমিন (৩৬) সারাদিন মার্কেটে দায়িত্ব পালন করেন। রাতে, মোটর সাইকেলযোগে নিজ গ্রাম বড়ালি হাজী বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন ছিনতাই কারীর কবলে পড়েন। এতে, মোড় ঘুরিয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে রুস্তমপুর অভিমুখে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে, সমিতির ব্রীজ এলাকায় তারা মুখোমুখি হন। ওই সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। কয়েক গজ দুর থেকে সোহাগ (৪০) ও মাওলানা কাওসার (৩২) নামক দুইজন দেখেন। মাছ শিকারের জন্য সোহাগের হাতে থাকা টেটা পেছন থেকে ছিনতাই কারীর পিঠে মারেন। মোটর সাইকেলের পেছনে বসা ছিনতাইকারী নিজ হাত দিয়ে পিঠ থেকে টেটা তুলে, হাতে থাকা বন্দুক থেকে সোহাগকে গুলি করেন। মাছ শিকারির টর্চ লাইটের আলোতে সোহাগকে গুলিবিদ্ধ করতে পারেননি, তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপর, দ্রুত রুহুল আমিনকে চার রাউন্ড গুলি করে ছিনতাই কারীরা রুস্তমপুর বাজার অভিমুখে পালিয়ে যায়। রুহুল আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার আগে আমরা বসত ঘর থেকে "ডাকাত ডাকাত" চিৎকার শুনছিলাম। সোহাগ জানান, চিৎকার করতে করতে দুটি মোটর সাইকেল দ্রুত বেগে ছুটে আসে। টর্চ লাইট ও রাস্তায় থাকা বৈদ্যুতিক আলোতে দেখেছি মোটর সাইকেলের পেছনে বসা লোকটির হাতে বন্দুক। আমি তার চোখ বরাবর টর্চ লাইটের আলো ধরে রাখি। হয় তো, এই জন্য আমার গায়ে গুলি তাক করতে ব্যর্থ হয়। এরপর, দ্রুত, মোটর সাইকেলে বসা রুহুল আমিন এর বুকে খুব কাছ থেকে কয়েকটি গুলি ছুঁড়ে। এতে, রুহুল আমিন মোটর সাইকেল থেকে লুটিয়ে পড়ে। সাথে সাথে, ছিনতাই কারীরা রুস্তমপুর বাজারের দিকে চলে যায়।
সোহাগের চিৎকার শুনে বিভিন্ন বাড়িঘর থেকে শত শত নারী-পুরুষ ছুটে আসেন। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে কয়েক হাজার লোক এলাকায় ভীড় জমান। তারা রুহুল আমিনের পালস দেখে বুঝেন তিনি মারা গেছেন।
খবর পেয়ে, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা, চতুর্দিকে আলামত খোঁজেন ও একটি গুলির খোসা পান। এরপর, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। এর মধ্যে, চাঁদপুর থেকে এডিশনাল এসপি? ক্রাইম এন্ড অপস্) লুৎফর রহমান ও হাজীগঞ্জ–ফরিদগঞ্জ সার্কেলের এডিশনাল এসপি মুকুর চাকমা ঘটনাস্থলে যান। তারা, প্রাথমিক খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
রুহুল আমিনের বাবা মো. হোসেন, ভাই সাইফুল ইসলাম, তার মা, স্ত্রী সোনিয়া ও নিকটাত্মীয়গণ কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়িতে সারা রাত কান্নার রোল পড়ে। বিকালে 'ফরিদগঞ্জ বিক্রয় প্রতিনিধি সংগঠন' ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। তারা সকলে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসীর রায় কার্যকরের দাবী তুলেছেন।
এদিকে প্রায় আড়াই শত বিক্রয় প্রতিনিধির পক্ষে শাহাদাৎ হোসেন টুটুল ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম হেলাল মানববন্ধনে দাবী করেছেন, আমরা সকলে নিরাপত্তাহীন, আমরা নিরাপত্তা চাই।
বিকালে নামাজে জানাজায় উপস্থিত হয়ে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নেতা ও মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ ও জামায়াতের আমির ইউনুছ এ ঘটনার নিন্দা করে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, রুহুল আমিন সিটি গ্রুপ কম্পানির রূপসী ফুডস লাইনে বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। ঘটনার আগে তিনি পার্শ্ববর্তী গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম জানিয়েছেন, আমরা তদন্ত করছি। অপরাধীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। অপরাধী দেরকেও আটকের চেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কি ধরনের বন্দুক ব্যবহার হয়েছে এ বিষয়ে তদন্তের পর জানানো হবে।
প্রতিষ্ঠাতা: ইকরাম চৌধুরী<br>
প্রধান সম্পাদক : মুনির চৌধুরী<br>
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শরীফ চৌধুরী <br>