মাজহারুল ইসলাম অনিক :
তীব্র যানজটে চাঁদপুর শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। র্দীঘ সময় সড়কে যানবাহনে আটকে পড়ায়, দুর্ভোগে নাকাল হচ্ছে কর্মব্যস্ত শহরবাসী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে পৌঁছাতে এবং বাসায় ফিরতে দেরী হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কর্মমূখী ও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের মূল্যাবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এর পাশাপাশি সড়কে আটকে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে। বিভান্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা সভায় যানজটের বিষয়ে বলা হলেও কার্যকর ভূমিকা নেয়া হয় না। এতে ভোগান্তী দিনদিনই বাড়ছে চাঁদপুর শহরবাসীর।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শহরের রেললাইনের উত্তরপাশস্থ জেলা আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে বাসস্ট্যান্ড, আবুলের দোকান মিশন রোড, ছায়াবাণী, কলেজ গেইট, চিত্রলেখা ও শপথ চত্বর এবং রেললাইনের দক্ষিণপাশস্থ কালীবাড়ি, পৌরসভার সম্মুখ সড়ক, পালবাজারস্থ ব্রিজের গোড়া, সরকারি জেনারেল হাসপাতাল হয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয় সম্মুখ সড়কে বিশাল যানজট লেগেই থাকে। দীর্ঘ সময়ে আটকে পড়ে যানবাহনের যাত্রী বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কালীবাড়ি চাঁদপুর টাওয়ারের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ও হকার্স মার্কেটের সামনে ফুটপাত দখল এবং ভ্রাম্যমান দোকানের কারনে এ তীব্র যানজট হচ্ছে বলে দাবী করেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া কালীবাড়ি সাধনা ঔষধালয়ের সামনের অবৈধ ইজিবাইক স্ট্যান্ডের কারনে দুভোর্গ বেশী হচ্ছে।
জাকির হোসেন বেপারী, নাজমুল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়া, প্রধান প্রধান মোড়গুলোতে অবৈধ স্ট্যান্ড এবং সড়কের দু'পাশে ভ্রাম্যমান হকার এই তিন কারনকেই শহরের যানজটের মূল কারণ। এছাড়া যততত্র ভাবে যাত্রী উছা নামা করা হয়। পৌর প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে যদি অবৈধ স্ট্যান্ড ও সড়কের দু'পাশ থেকে হকার উৎখাত করা হয়, তবেই 'যানজট' নামক মহা মুছিবত থেকে রক্ষা পাবে শহরবাসীসহ সড়ক ব্যবহারকারীরা।
অটোযোগে চলতিপথে একযাত্রীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, চাঁদপুর খুবই একটি ছোট্ট শহর। এখানে সড়কের তুলনায় সিএনজি স্কুটার, অটো এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বহুগুণ বেশি। শহরটিকে সচল রাখতে হলে প্রথমে, যে সমস্ত গাড়ির পারমিট নেই তাদের ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করতে হবে এবং সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পৌরসভার তদারকি ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে।
কয়েকজন যাত্রী বলেন, এই শহরে মানুষজনের চলচল করার জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে দিনের বেলায় শহরে পণ্য ও তেলবাহী গাড়ির অবাদে চলাচল যানজটের অন্যতম কারন। ট্রাক চলাচলের জন্য যদি নির্ধারিত সময় করে রাত ১০ টা থেকে সকাল ৮টায় স্থির করা হতো, তাহলে হয়তো কিছুটা হলে এই মুছিবত থেকে মুক্তি মিলতো। এর পাশাপাশি প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা। ফুটপাথগুলো দখল থেকে মুক্ত করে চলাচলের যোগ্য করে তুলতে হবে। ফুটপাথ দখলে থাকায়, স্বল্প দূরতের যাতায়াতে পাঁয়ে হেটে যাওয়ার পরিবর্তে রিকশা, অটোরিকশা ব্যবহার করছি, এতে সড়কে এদের ব্যবহার বাড়ছে এবং যানজট সৃষ্টির বড় কারণ হচ্ছে।
আরেক যাত্রী বলেন, চাঁদপুর শহরে নেই কোনো পার্কিং স্পেস। যার কারণে সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। যে সমস্ত বিপনী বিতানে পার্কিং স্পেস নেই, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। চাঁদপুর শহরবাসীর প্রধান যানবাহন হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটো। তবে দিন দিন এ ধরনের যানের সংখ্যা গাণিতিক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা শহরে আসতে সাধারণ মানুষকে শহরের প্রবেশ মুখেই চরম যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিফলে যাচ্ছে, ফলে মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। সচেতন মহল বলছেন, শহরে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক হাজার ব্যাটারি ও সিএনজিচালীত গাড়ি বেশি চলছে।
ফরিদগঞ্জ থেকে শ্বাসকষ্টের রোগী নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, মিশন রোড থেকে সিএনজিযোগে সদর হাসপাতালে যেতে সময় লাগার কথা সর্বোচ্চ ৪/৫ মিনিট। সেখানে যানজটের কারণে সময় লেগেছে প্রায় আধাঘণ্টারও বেশি। এমনিতেই শ্বাসকষ্টের রোগী, তারপর যানজট। সময়মতো হাসপাতালে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। এর থেকে পরিত্রাণের কি কোন উপায় নেই।
চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মোঃ মাহফুজ মিয়া বলেন, যানজট নিরসনে চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। চাঁদপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৩০ জন ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। তবে যদি আরোও কিছু লোক দেয়া যায়, তবে শহরের যানজট কিছুটা কমে আসতে পারে।
প্রতিষ্ঠাতা: ইকরাম চৌধুরী<br>
প্রধান সম্পাদক : মুনির চৌধুরী<br>
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শরীফ চৌধুরী <br>