প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৫, ২০২৬, ১:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১০, ২০২৫, ১২:০৬ এ.এম
একদিকে প্রাথমিক শিক্ষক কর্মবিরতি অন্যদিকে শিক্ষা অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা

সুজন চৌধুরী ঃ বর্তমানে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের চেয়ে বেশি আন্দোলন হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্দোলন। শিক্ষকদের একের পর এক দাবি। দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমন কর্মবিরতি অভিভাবকদেরকে হতাশা ফেলছে। একদিকে সমাপনী পরীক্ষা বার্ষিক পরীক্ষা অন্যদিকে বৃত্তি পরীক্ষা এত কিছুর পরও শিক্ষকরা তারা সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য ঠিক বার্ষিক পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এসে তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নামছে। যদিও এ সমস্ত দাবি যৌক্তিক তবে শিক্ষকদের সবকিছুর দিক চিন্তা করে তাদেরকে মাঠে নামা উচিত ছিল বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
গত কয়েকদিন হল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম শিক্ষকদের কর্ম বিরতি এর রেস কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়ে গেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, শিক্ষকরা যৌক্তিক বিষয় নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করবে তবে ঠিক ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষার আগ মুহূর্তে তারা কেন এ আন্দোলনটিকে বেছে নিবে।
গতকাল শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কোন কোন বিদ্যালয়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই আবার কোন কোন বিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রী থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে না গিয়ে অফিস কক্ষে বসে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চলছে এবং এ আন্দোলনে পুলিশ বেপরোয়াভাবে আমাদের শিক্ষক নেতাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এবং প্রায় ১০০ এর উপরে শিক্ষক-শিক্ষিকা আহত। হয়েছেন সেই প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষণা অনুযায়ী আমরা আজ শিক্ষক কর্ম দিবস পালন করছি। আমাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে দশম গ্রেড উন্নীত করা দুই-১০ বছর এবং ১৬ বছরের মধ্যে টাইম স্কেল এবং ধারাবাহিক পদোন্নতি।
অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোসাদ্দেক হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমরা ইতিমধ্যে একটি টিম গঠন করেছি। যাতে করে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষিকারা কোন প্রকার কর্ম বিরতি না করে। স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা তাদের পাঠদান চালু করে। ইতিমধ্যে আমরা একটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম চালু করেছি। এরপর পরপরই শিক্ষকরা বিভিন্ন স্থানে ক্লাস নেয়া শুরু করেছে। এ ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষক শিক্ষিকারা তারা তাদের পাঠদান থেকে বিরত থেকে কর্মবিরতি পালন করতে থাকে, তাহলে তাদের নাম লিস্ট করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অভিজ্ঞমহল মনে করেন, একের পর এক শিক্ষক শিক্ষিকারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ঠিক পরীক্ষার আগ মুহূর্তে যদি এভাবে একের পর এক আন্দোলন করে, শিক্ষক শিক্ষিকারা কর্মবিরতি করতে থাকে, তাহলে শিক্ষার মান দিন দিন অবক্ষয়ের দিকে যাবে। এসব কর্মবিরতি থেকে শিক্ষকরা আবারো পাঠদানে মনোযোগী হবেন এমনটি প্রত্যাশাই তাদের।
প্রতিষ্ঠাতা: ইকরাম চৌধুরী<br>
প্রধান সম্পাদক : মুনির চৌধুরী<br>
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শরীফ চৌধুরী <br>
Copyright © 2026 Chandpurdarpan | দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ . All rights reserved.