তৃতীয় পাতা , হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জ বাজারে একই সম্পত্তির ওপর ৫টি মামলা দিয়ে হয়রানি

person access_time 5 months ago access_time Total : 302 Views

হাজীগঞ্জ অফিস ঃ হাজীগঞ্জ বাজারের একটি সম্পত্তির ওপর একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটি নিষ্পত্তি হয়েছে। সম্প্রতি আরেকটি মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞ আদালত সরজমিন তদন্ত সাপেক্ষে আগামী ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রথমে মামলার বাদী বিক্রেতা মৃত জহিরুল আলম পাটোয়ারী। তারপর তার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারী। সর্বশেষ মামলাটি দায়ের করে ছোট ছেলে কুতুব আলম পাটোয়ারী। ঘটনাটি হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারের আমিন রোডস্থ কবুতর বাজারে। সর্বশেষ চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা অভিযোগে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ২১৩ হালে ৮৩ নং মৌজার এস এ ৩৭৭ নং খতিয়ানভূক্ত সাবেক ৯০০ দাগ ২২১০, ২২৫২, ২২৫৩ দাগে .০৩৪৬ একর ভূমির মালিক ও ভোগদখলকার ছিলেন প্রার্থীর বাবা মৃত জহিরুল আলম পাটোয়ারী। এখন ওই সম্পত্তির উপর দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বিল্ডিং নির্মাণ করছেন বলে উল্লেখ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন কুতুব আলম পাটোয়ারী। তিনি ওই দাগে ১৪৫ ধারার বিধানমতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন। কুতুব আলম পাটওয়ারীর চাচার দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ১৯৮৫ সালে আমার ভাই জহিরুল আলম পাটওয়ারীর কাছ থেকে ১.৬৬ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেছি। হঠাৎ করে ২০১৪ সালের পর আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সর্বশেষ কুতুব আলম পাটওয়ারী যে অভিযোগটি দায়ের করে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেনÑ সেই দাগে আমি কোন সম্পত্তি ক্রয় করিনি এবং বিল্ডিং নির্মাণ করিনি। আমি দাবীও করছি না। সেখানে যে তফসিল দেখানো হয়েছে, ওই তফসিল আমার সম্পত্তি নাই। তারা অভিযোগে মিথ্যা তফসিল বর্ণনা দিয়ে আমার নাম ঠিকানা উল্লেখ করে হয়রানি করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে জহিরুল আলম পাটোয়ারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের নাম্বার ৮৬৬। ওই মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তারপর ২০১৬ সালে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। সেটি ২০১৯ সালে দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে রায় দিয়েছে আদালত। ২০১৪ সালে আরো একটি মামলা করলে সেটি ২০১৯ সালে হাইকোর্ট থেকে নিষ্পত্তি হয়। মামলা নম্বর ৬৫। জহিরুল আলম মারা যাওয়ার পর তার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারী ২০১৯ সালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চতুর্থ অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। মামলা নম্বরটি ছিল ৯৪৮। কোন উপায়ন্ত না পেয়ে জহিরুল আলম এর ওয়ারিশ দাবি করে বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ছোট ভাই কুতুব আলমকে দিয়ে নিষেধাঙ্গার জন্য আদালতের স্বরণাপন্ন হয়। দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, তারা বিভিন্নভাবে আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিলে আমার বিরুদ্ধে আর হয়রানি মূলক মামলা করবে না বলেও তারা প্রস্তাব পাঠায়। প্রশাসনের সু-দৃষ্টি ও সুষ্ঠু তদন্তে সহযোগিতা কামনা করছি। জানতে চাইলে কুতুব আলম পাটোয়ারী বলেন, আমি সম্পত্তি ও কাগজপত্রের বিষয়ে কিছুই বুঝিনা। আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম এসব বুঝেন। তিনি আমাকে দিয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, আমরা মূল দাগের উপরে অভিযোগ দিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছি।

content_copyCategorized under