প্রথম পাতা , ব্রেকিং নিউজ , হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে জাল জন্মনিবন্ধনের ছড়াছড়ি

person access_time 2 weeks ago access_time Total : 15 Views

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ হাজীগঞ্জের ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে জাল নিবন্ধনের ছড়াছড়ি! বাল্য বিয়ের নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত এ ইউনিয়নে অর্থের বিনিময়ে মিলে জন্মনিবন্ধন সনদ। যা অনলাইনে তথ্য যাচাই-বাচাই করলে কোন হদিস মিলে না। এমন কি বিদেশ যাওয়ার জন্য বয়স বাড়াতে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে প্রতারিত হয়ে স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে অনেক বিদেশগামী যুবকদের। ইউনিয়ন পরিষদ প্যাডে জন্মনিবন্ধন সনদ মিললেও অনলাইনে তথ্য যাচাই বাচাইয়ে কপাল পুড়ে বিদেশগামী এসব যুবকদের। জন্ম সনদ নিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া বেলঘর দক্ষিণ পাড়ার সুলতান সর্দার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮) বিদেশ যাওয়ার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদে বয়স বাড়াতে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে’র উদ্যোগক্তার কাছে যায়। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগক্তা কামাল হোসেন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে দিলেও পাসপোর্ট আবেদনে যাচাই-বাচাইয়ে আটকে যায় সাইফুল ইসলামের জন্ম সনদ। ইউনিয়ন পরিষদ প্যাডে জন্মনিবন্ধন সনদ থাকলেও অনলাইনে তথ্যের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। উদ্যোগক্তা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে রমরমা জন্মনিবন্ধন বাণিজ্য অভিযোগ উঠেছে। জন্ম নিবন্ধন সনদ বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলেও প্রতিনিয়ত হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ তথ্য উদ্যোক্তা কামাল হোসেন যোগদানের পর কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে একের পর এক পার পেয়ে যাচ্ছে। এ ইউনিয়নে টাকা দিলে হাতের নাগালে মিলে জাল জন্ম নিবন্ধন! সরকার বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ তথ্য উদ্যোক্তা কামাল হোসেনের কু-কর্মের কাছে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের এ মহা উদ্যোগ। এমন কি অপ-লাইনে একজনের স্থলে আরেক জনের নাম ঠিকানা বসিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সচিবের স্বাক্ষর জাল করে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে আসছে। অনলাইনে যাচাই-বাচাই করলে এসব নিবন্ধন সনদের কোন হদিস পাওয়া যায় না। হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের অধিকাংশ বাল্য বিয়ের বয়স ঠিক করে জন্ম সনদ তৈরি করে দিচ্ছে বলে জানা যায়। জাল জন্ম সনদের তথ্য যাচাই-বাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় যে, হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নং হাটিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জলিলুর রহমান মির্জা (দুলাল) এবং সচিব মোসাম্মদ রাবেয়া বশরী’র স্বাক্ষরিত মতলব দক্ষিণ থানার পয়ালীবাজার চাপাতিয়া গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া’র নামের জন্ম সনদের তথ্যের স্থলে অনলাইনে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের আহাম্মদ উল্ল্যাহর মেয়ে তানজিনা নামে তথ্য পাওয়া যায়। ওই জন্ম নিবন্ধন সনদে উল্লেখিত জন্ম নিবন্ধন সনদ নাম্বার ২০০০১৩১৪৯৬৫০১১৯৬৮। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, অর্থের বিনিময়ে পাওয়া জাল জন্ম সনদ তৈরি করে গত বছরের ৫ অক্টোবর মতলব দক্ষিণ থানার পয়ালীবাজার চাপাতিয়া গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়াকে বিয়ে দেয় হাটিলা ইউনিয়নে। বয়স কম হওয়ায় বর পক্ষ তথ্য উদ্যোক্তা কামালের সহায়তায় জন্ম সনদ তৈরি করে নবম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ের ব্যবস্থা করে। তানিয়ার মত এরকম ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে শত শত সনদ তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সচিবের সাক্ষর জাল করে কামাল হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, ওই ইউনিয়নের রাজাপুরা গ্রামের রহিমের মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আমেনা আক্তার, একই গ্রামের কাদেরের মেয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার, একই ইউনিয়নের লাওকোরা গ্রামের মিয়াজী বাড়ির মিলনের মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী সারমিন আক্তার, বেলঘর মজুমদার বাড়ীর মিজানের মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া, বেলঘর বেপারী বাড়ীর মোস্তাফার মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মিতুর জন্ম সনদ বয়স পরিবর্তন করে বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করে, বেলঘর আজিজ মেলোটারী বাড়ীর আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আখির জন্ম সনদে বয়স পরিবর্তন করে একই গ্রামের কালাম পাটওয়ারীর ছেলে হাবিবুর রহমানের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। এদিকে ওই গ্রামের কাদেরের ছেলে রাসেদের বিদেশ যাওয়ার জন্য জন্ম বয়স পরিবর্তন করেন। তথ্য উদ্যোগক্তা কামাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা বলেছে তারা তাদের কাছ জেনে নিন। আমি হৃদয়ের চাঁদপুরের সাংবাদিক আপনি কি বলতে চান? আপনি যদি কোন দিন আমার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কিছু পান তাহলে প্রমাণ নিয়ে ফোন দিবেন। ভূঁয়া কোন তথ্য নিয়ে ফোন দিবেন না। আপনি আমাকে ফোন দিয়ে হয়রানি করছেন। আমি আপনার উপরস্থরের কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিবো। ইউপি চেয়ারম্যান মো. জলিলুর রহমান মির্জা (দুলাল) বলেন, এ বিষয়ে আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের সচেতনমহল তথ্য উদ্যোগক্তা কামালের অপকর্মের ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under