প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা ঃ ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

person access_time 3 months ago access_time Total : 61 Views

এস.এম.মিরাজ মুন্সী/ সুজন দাস ঃ হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে চার তরুন মিলে তরুণীকে গণধর্ষন করেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই তরুণী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার আসামীরা হলেন তরুণীর বাড়ির বাসিন্দা রাব্বি (১৯), মেরাজ হোসেন (২২), ইমরান হোসেন (২১), আরেফিন ওরুপে আমিনুল (২০), ইউপি সদস্য (মেম্বার) অহিদুল ইসলাম (৬০) ও সালিশদার মোস্তফা কামাল (৬৫)। পুলিশ শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ইমরান, আরফিন ও ইউপি সদস্য অহিদুল ইসলামকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা লঞ্চ যোগে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গতকাল শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে আসামীদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর তরুণীটির মেডিকেল পরীক্ষা করার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের এক গৃহবধূ ছোটবেলায় তরুণীকে দত্তক নেয়। তরুণীর মা ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালায়। আটমাস আগে একই বাড়ির চার তরুন তরুণীকে ধর্ষন করে। ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশদারগণ গ্রামে সালিশ বসিয়ে চার তরুনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা আদায় করে। তারা চার তরুনের মধ্যে একজনের সাথে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করেন। গতকাল শনিবার এ বিয়ে হওয়ার দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু এর আগেই পুলিশ টের পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাস তিনেক আগে তরুণী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তাকে তার মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তরুণী অন্তঃসত্ত¦া বলে জানায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চুকে কথাটি জানানো হয়। পরে চেয়ারম্যান স্থানীয় মাতাব্বরদের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। সালিশ বৈঠকে তরুণী ধর্ষন হওয়ার কথা স্বীকার করে। এই প্রেক্ষাপটে সালিশদারগণ চার তরুনের কাছ থেকে দেড় লাখ করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন। পরে ওই টাকা ইউপি সদস্য অহিদুল ইসলামের কাছে জমা রাখা হয়। তরুণীর বিয়ের সময় ওই টাকা তার পরিবারকে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেই পুলিশ হানা দিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, তরুণীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জেনে স্থানীয়ভবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছি। তার ভবিষৎতের কথা চিন্তÍা করে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, ছয়জন আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলছে। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

content_copyCategorized under