প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , মতলব দক্ষিণ

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও অর্থাভাবে মতলবের রথটি নির্মিত হয়নি |বাঁশের তৈরী রথই সম্বল

person access_time 1 week ago access_time Total : 11 Views

শ্যামল চন্দ্র দাস ঃ চাঁদপুরের মতলবে ঐতিহ্যবাহী মতলব সদরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরটি ১২৩৫ বাংলা সনে মতলব বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীণ সময়ের জমিদার শ্রী রাজকুমার রায় চৌধুরী শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং লোহা কাঠের তৈরি সুদর্শন রথ নির্মান করেন। এরপর থেকেই এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মালম্বী ভক্তরা সার্বজনীনভাবে রথ উৎসব উদ্যাপন করে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী ও তাদের দোসররা মন্দির, নাট মন্দির ও সুদর্শন রথটি আগুনে পুড়ে ফেলে। এই রথটির উচ্চতা ৪৪ ফুট ও প্রস্থ ৩০ ফুটসহ মন্দির, নাটমন্দির আগুনে পুড়ে ও লুটপাট করে ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তী সময়ে সনাতন ধর্মালম্বী ভক্তরা সকলের সহযোগীতা নিয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির ও নাটমন্দির নির্মাণ করেন। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার মধ্যে মতলব শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরটি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম মন্দির। প্রতিদিনই শত শত ভক্তদের সমাগম ঘটে থাকে। হচ্ছে নিত্য পূজা অর্চনা ও প্রসাদ বিতরণ। মন্দিরে নির্ধারিত পুরোহিত নিয়োগ করে মন্দিরের পূজা অর্চনা করছেন। এছাড়াও রয়েছে মন্দিরের একটি পরিচালনার জন্য কমিটি। কিন্তু আর্থিক অভাবের কারনে স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও লোহাকাঠের সুদর্শন রথটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাঁশ দ্বারা নির্মাণ করে প্রতিবছরই আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষে দ্বিতীয়া তিথিতে রথ উৎসব উদ্যাপন করে আসছে। দীর্ঘ বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী এ রথটি নির্মাণ করতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। ইতিমধ্যে মন্দিরের সকল উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলেও রথটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। রথ টানার মাঠ রয়েছে কিন্তু রথটি নির্মিত না হওয়ায় সনাতন ধর্মালম্বী ভক্তরা নিরাশ। ভক্তরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ, পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে রথটি নির্মানের জন্য দীর্ঘ বছর যাবৎ দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সনাতন ধর্মালম্বী ভক্তদের আশা আজও পুরন হয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক শ্রী নির্মল গোস্বামী বলেন, মতলব শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরটি অতি প্রাচীনতম একটি মন্দির। এ মন্দিরটির বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার মধ্যে ঐতিহ্য রয়েছে। এক সময় সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধর্মানুরাগী ভক্তবৃন্দরা রথযাত্রা উপলক্ষে নৌকাযোগে রথদর্শন করতে আসতেন। অর্থাভাবে রথটি নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটির জন্য লোহা কাঠের একটি রথ তৈরী করা অতিব জরুরী। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এড. নুরুল আমিন রুহুলসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, মন্দিরের সুদর্শন রথটি পাকিস্তানী দোসররা পুড়ে ফেলেছে। পরবর্তীতে আমরা বাঁশ দ্বারা রথ নির্মাণ করে রথ উদ্যাপন করে আসছি। আর্থিক অভাবের কারনে রথটি নির্মাণ করা আদৌ সম্ভব হয়নি। রথটি নির্মাণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. নুরুল আমিন রুহুল সাহেবসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা চাই। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি কাউন্সিলর কিশোর কুমার ঘোষ বলেন, মতলবের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরের রথটি নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরী। অর্থাভাবের কারনে নির্মাণ করতে পারছি না। মন্দিরের রথযাত্রা উৎসবে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতি বছরই হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম ঘটে থাকে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহা বলেন, মতলবের ঐতিহ্যবাহী মন্দির হচ্ছে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির। এ মন্দিরে প্রতি বছরেই রথযাত্রা উদযাপিত হয়। কিন্তু বাঁশের তৈরী রথ দিয়ে উদযাপন করা হয়। আমরা লোহা কাঠের তৈরী রথ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ করছি। উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গনেশ ভৌমিক বলেন, অর্থাভাবের কারনে রথ নির্মাণ করতে পারছি না। অস্থায়ীভাবে বাঁশ দ্বারা রথ নির্মাণ করে রথযাত্রা উদ্যাপন করছি। আমাদের দাবী লোহা কাঠের তৈরী একটি রথ নির্মাণের। মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শংকর রাও নাগ বলেন, পাকিস্তানী দোসররা ১৯৭১ সালে সুদর্শন রথটি পুড়ে ফেলেছে। এরপর থেকেই আমরা বাঁশ দ্বারা রথ নির্মাণ করে প্রতিবছর রথযাত্রা উৎসব উদ্যাপন করছি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে রথটি নির্মাণ করতে পারছি না। রথটি নির্মাণে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাধা কৃষ্ণ সাহা বলেন, শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতা কামনা করছি। এ প্রাচীনতম মন্দিরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথটি নির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশু দৃষ্টি দিবেন বলে মতলবের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ভক্তবৃন্দরা জোর দাবী জানিয়েছেন।

content_copyCategorized under