প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , শাহরাস্তি , ব্রেকিং নিউজ

শাহরাস্তিতে শিক্ষিকাকে অশ্লালীন বক্তব্যে প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের প্রিন্সিপালকে অবরুদ্ধ

person access_time 2 months ago access_time Total : 75 Views

শাহরাস্তি অফিসঃ শাহরাস্তিতে মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের অশ্লালীন বক্তব্যে এক নারী শিক্ষিকা হতভম্ব হয়ে পড়েন। বিষয়টি আচঁ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে প্রিন্সিপালকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে অবরুদ্ধ প্রিন্সিপালকে উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা জানান, ওইদিন সকাল থেকে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের (হাজেরা আক্তার) শিক্ষার্থীদের শ্রেনীকক্ষে পাঠ দান করছিলেন। ওই সময় সহকারী গনিত বিষয়ক প্রভাষক মোঃ বিল্লাল হোসেন তাকে (হাজেরাকে) প্রিন্সিপালের একটি ম্যাসেজ দিয়ে বলেন, আমি যেন শ্রেণী কক্ষের সেমিনার টেবিলে পেট ঠেকিয়ে পাঠদান না করি ,যেনো সোজা হয়ে ক্লাস করি। তারপরও তলপেট ভারী হয়ে গেলে যেন প্রিন্সিপালকে জানানো হয়। প্রিন্সিপালের বাহক কর্তৃক পাঠানো এমন অশ্লীল ,অশালীন কথাগুলো বলার সময় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শুনতে পায়। পরে আমি পাঠদান শেষে শিক্ষক বিশ্রামাগারে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে শিক্ষার্থীরা জড় হয়ে প্রিন্সিপালের অপসারনের জোর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ১টি কক্ষে প্রিন্সিপালকে কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই মৌখিক অপমানের ওইকথা চারদিকে ভাইরাল হয়ে পড়লে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাসহ স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরে সৃষ্ট ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনতে শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) উম্মে হাবিবা মীরা ও মডেল থানার এসআই নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন । এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রিন্সিপাল মাওঃ দেলোয়ার হোসাইন প্রায়শই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গালমন্দ করেন । ওইসব নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে ক্লাশে এসে তাদের বেদম প্রহার করেন। এর পূর্বেও অশ্লীল কথা নিয়ে মাদ্রাসায় বহু বৈঠক হলে তার প্রতিকার আজও মিলেনি। এ ভাবে বারবার তিনি ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাওঃ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের ও শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নের স্বার্থে এমনটা করেছি। আমার সাথে শিক্ষিকা হাজেরা আক্তারের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই।ওইসময় এমন আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এদিকে অভিযোগকারী হাজেরা আক্তার নিজের ও চাকুরীর নিরাপত্তা বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রনে আসে।

content_copyCategorized under