প্রথম পাতা , শাহরাস্তি , ব্রেকিং নিউজ

শাহরাস্তিতে ধানে ব্লাস্ট রোগ ঃ দিশেহারা কৃষক

person access_time 4 months ago access_time Total : 94 Views

মো.মাসুদ রানা শাহরাস্তি ঃ শাহরাস্তিতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু আবাদকৃত ফলনে ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। উপজেলার ১০ টি ইউপি ও ১ টি পৌরসভার ১৭৬ টি গ্রামে ৩১টি ব্লকের মাধ্যমে ৩৫ হাজার ১শ ৭৫ কৃৃৃষক পরিবার এ চাষাবাদে সম্পৃক্ত রয়েছে। স্থানীয় কৃষি কাজে নিয়োজিত মাঠ কর্মীরা জানান, এবার রাতে শীত, দিনে গরম ও ভোর রাতে কুয়াশা পড়ায় হঠাৎ করে ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ বেড়েছে। পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের মৃধাবাড়ীর মাঠের কৃষক বিল্লাল হোসেন (৪০) এর ২৪ শতাংশ বোরো চাষ একই তালুকদার বাড়ীর সেলিম ভুইয়া (৪০) এর, ৬০ শতাংশ, হারুনুর রশীদ (৩৫) এর ৪২ শতাংশ।নিজমেহার ফাইলট সেচ প্রকল্পের নুরুল হকের ৭২ শতাংশ, একই মাঠে পদুয়া গ্রামের আঃ মতিনের পুত্র মো হানিফ মিয়ার (৩৫) ৭২ শতাংশ, আঃ কাদেরের পুত্র জামাল হোসেনের ( ৫৪) শতাংশ আবাদি বোরো ফসলী জমিতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার বাওলা, কাজির কামতা কাজির নগর, নিজমেহার, ষোলপুকুরিয়া, দেবকরা মাঠে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ফসলী জমি রয়েছে। এছাড়া মেহের উত্তর ইউপির কাকৈরতলা গ্রামের কুনু মিয়ার পুত্র মোস্তফা (৫৫) ৬০শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ জাতের,রায়শ্রী উত্তর-দক্ষিণ ইউপির প্রসন্নপুর গ্রামের দীন ইসলাম (৬০) ৫০শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান,একই ইউপির নাহারা গ্রামের খলিলুর রহমান (চক্কা) ৫০ শতাংশ জমিতে হাইব্রীড , সূচীপাড়া উত্তর ইউপির পৌছিঁয়া গ্রামের আঃ রউফের পুত্র বকুল (৫২) ১৮শতাংশ জমিতে ব্রি-২৯, সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউপির কেশরাঙ্গা গ্রামের আলী আক্কাস(৪২) ৩০শতাংশ জমিতে ব্রি আর -২৮ ধান, চিতোষী পশ্চিম ইউপির খেড়িহর গ্রামের আঃ সাত্তার (৪৫) ৩০শতাংশ জমিতে হাইব্রিড এগ্রো ধান চাষ করে ব্লাষ্ট রোগের প্রকোপে পড়েছেন।এছাড়া সমগ্র উপজেলার প্রায় মাঠে ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ চোখে পড়ে।স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর জানায়, এ বছর উফশী জাতের বোরো ধান চাষের ১০ হাজার ২শ ৭৫ হেক্টর জমির নির্ধারন করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০শত ১০ হেক্টর।কৃষিবিদ মোহাম্মদ সোফায়েল হোসেন জানান, ব্লাস্ট ছত্রাক জনিত একটি রোগ। এটি দু’ধরনের হয়ে থাকে নেক (ঘাড়) ও লিভ (পাতায়)। এবার এ এলাকায় ২৮ ধানের (নেক) ঘাড়ে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগের প্রতিকার হিসেবে ছত্রাক নাশক ঔষধ ট্রুপার ৭.৫ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে ৬ শতাংশ হারে দিতে হবে। ১ বিঘায় ৫০ গ্রাম হারে ঔষধ ছিটাতে হবে আক্রান্ত ফসলি জমিনে। একই সাথে জমিনের নালা কেটে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। এছাড়া গত ৩ বছরের পরিসংখানে দেখা যায় এ এলাকায় ২৮ ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। সে জন্য বোরো চাষে বিকল্প বীজ হিসেবে বিরি-৬২-৫৮ ধানের চাষাবাদ করা যেতে পারে। এদিকে আবাদকৃত বোরো ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষক।যে সব ফসলি জমিতে ৮০ শতাংশ ধান পেঁকেছে সে সব জমির ধান কাটা যেতে পারে।সহকারী কারী কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম জানান, ব্লাস্টে ক্ষতির পরিমান ২৮.৫ হেক্টর ,দমন ২৬ হেক্টর। স্কোয়াড ঘটনের মাধ্যমে দমন প্রক্রিয়া অব্যহত রয়েছে।এদিকে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে উৎপাদিত ফসল বিনষ্ট হওয়ায় ও ঘূর্ণিঝড় ফণীর আতংকে বোরো চাষ করা চাষীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বোরো চাষী সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার অর্জিত সকল টাকা পয়সা এ মৌসুমে বোরো চাষে বিনিয়োগ করেছি। আমি চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনানিপাত করব।

content_copyCategorized under