শীর্ষ খবর , শেষ পাতা , শাহরাস্তি , ব্রেকিং নিউজ , জাতীয়

শাহরাস্তিতে আলোকিত ইউএনও হাবিব উল্লাহ

person access_time 3 months ago access_time Total : 139 Views

মোঃ মাসুদ রানা,শাহরাস্তিঃ উদ্যোক্তা ও প্রথম সভাপতি আলোকিত জনবান্ধব ইউএনও হাবিব উল্লাহ মারুফ যে ভাবে এমব্রোস স্টোনে খোদাইকৃত ফ্রেমে বন্ধী হলেন, সেখানে অনেকের লিখা হয়তো শেষ। কিন্ত এখনও লিখতে গিয়ে হয়ত অনেক শব্দ খুঁজে পাবোনা। কারণ স্থানীয় গনমাধ্যম তথা সোশাল মিডিয়া ভালোবাসার মানুষগুলো তাকে মূল্যায়ন ও উপস্থাপনের কাজ এরিমধ্যে শেষ করেছেন। তারপরও মনে হলো কিছু কথা হয়ণি বলা এখনো ।তাই ইচ্ছে হলো আজ একটু লিখি। এখন আর কেউ ভুল বুঝবে না। বিদায়ী ইউএনওদের নিয়ে লেখার একটি উদ্যেশ্য থাকে। আমার তেমনটা নেই,আমার রয়েছে শিক্ষকের সন্তান হিসেবে একজন গুণি শিক্ষাবান্ধব ইউএনওকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতির স্যালুট দেওয়ার সামান্য প্রয়াস মাত্র। তিনি আজ আর এ শান্ত জনপদের ভালো মন্দ নিয়ে নিয়ে হয়তো কিছুই ভাবছেন না। মুঠোফোনের অনেক নাম্বার কাটসাটের প্রাথমিক চিন্তা হয়তো শুরু করেছেন। তারপরও সাবেক কর্মস্থলের নানান আনন্দ বেদনার স্মৃতি তাকে পীড়া দিচ্ছে। এটাই বাস্তবতা! আর সে জন্যই তো আমরা বাঙ্গালী।
হ্যাঁ বলছি, সদ্য পদায়নকৃত খাগড়াছড়ি জেলা এডিসি জেনারেল সদা হাস্যোজ্জ্বল সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফের কথা। একটু পিছনে তাকালে মনে হয় এইতো সেদিন ২০১৬ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর শাহরাস্তি উপজেলার ১৯তম নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর তিনি বলেন, আমার ছবিটা আপনার মুঠোফোনে দিলাম। কিছু বুঝে উঠার আগেই কখন যে সময়টা গড়িয়ে চলে যাওয়ার মহেন্দ্রক্ষণ চলে এলো, টেরও পেলাম না । এরই মধ্যে তিনি যোগদান করে ইলিশের বাড়ি খ্যাত চাঁদপুরের আউলিয়া নামে শাহরাস্তি উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উওম এমপি মহোদয়ের সান্নিধ্য পেলেন। শুরু করলেন নিজেকে উপস্থাপনের নানান কর্মকৌশল। দিনরাত নিরলস ভাবে ধৈর্য্য ,মেধাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কাজ গুলো দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রনী ভুমিকা রেখে নিজেকে এক জন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে জানান দেন।
তারপরও চিন্তা করতে থাকেন কোথায় কিছু একটা করা যায় কিনা।এ বঙ্গ জনপদের নারী শিক্ষার পথপ্রর্দশক প্রয়াত ড. এম এ সাওার শিক্ষার যে আলোর বাতি ঘর জ্বালিয়ে গেছেন, এর মধ্যে স্থানীয় সাংসদের তীক্ষœ দৃষ্টির মধ্যে থেকে কিছু নতুন একটা করা বড় সাহসের কাজ। হঠাৎ করে স্থানীয় সাংসদের সবুজ সংকেত পেয়ে মনের প্রবল ইচ্ছা শক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে শুরু করলেন অসাধ্যকে সাধন করতে। সেটি ২০১৭ সালের জুনে করেও ফেললেন, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি হতে প্রতিষ্ঠা পায়“বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল”। পরে ২০১৮ সালের শেষদিকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনের কাজে হাত দিয়ে ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় অনেকটা আলাদিনের গল্পের মতো নির্মাণ কাজ শেষ করলেন । উপজেলায় ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকতে ওই প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টির পেছনের কারণ অত্র জনপদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা সবাই জানে।এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার গুনগতমান ও ফলাফলের সুনামের সুবাতাস চারদিকে বইতে শুরু করেছে। সব চেয়ে বড় কথা হলো যিনি এ মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ণে নিজের শারীরিক, মানষিক ক্ষতির চিন্তা না করে নিজের বৈশাখী ভাতার টাকা গুলো স্কুলের কাজে বিলিয়ে দেন, তার বিদায় অনুষ্ঠানে নিজেই থাকতে চাইলেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উওম এমপি। সাধারণত ইউএনওদের বিদায় অনুষ্ঠান এমপিরা থাকেন না। কিন্ত এমপি স্যার তার বিদায় অনুষ্ঠানে থেকে অকুন্ঠ চিত্তে বলেন, শাহরাস্তিবাসীকে তিনি মারুফ যা দিয়েছেন, একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে যে কর্মস্পৃহা দেখিয়েছেন, যা আমি ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন স্বরনে রাখবে। আর প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো বাস্তবায়নের যারা ভূমি,অর্থ,প্রজ্ঞা, শ্রম দিয়ে রসদ যুগিয়েছেন, তারা ঐতিহাসিক অবদানে নিজেদেরকে যুক্ত করলেন। আমরা কিছু গনমাধ্যম কর্মী সামান্য মসী দিয়ে আপামর জনতাকে জানিয়েছি , এ আলোর বাতি ঘরটি জ্ঞানের বিচ্ছুরণ ছড়াবে। গত (১১মে) গনমাধ্যম কর্মীদের বিদায় সংবর্ধনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ এ উপজেলায় তার কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমি আপনাদেরকে গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান শাহরাস্তি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেলাম, এটি আপনাদের সন্তানদের শিক্ষা জীবনে সার্টিফিকেট এর মূল্যায়নের সময়ে বিশেষ কাজে আসবে। এইটি আপনাদের প্রতিষ্ঠান, রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের। আমি যা করেছি সেটি শুধুই আমার মনের একটি অভিলাষ ও দূঃসাহস। আর এর মধ্যে কিছু সফলতা থাকলে সেটি আপনাদের, আর এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়নে ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে সেটি আমার।
গত ১৫মে খাজুরিয়া নামে স্থানে বিদায় বেলায় ঢাকায় ছিলাম, তাই এফবিতে কিছু ছবি দেখে একটি শূন্যতা অনুভব করছিলাম।ওইদিন বিয়াম স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিভাবক চলে যাওয়ার সময় অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০০ কোমলমতি শিক্ষার্থীর অশ্রুসিক্ত মুখাবয়ব বড়ই মলিন দেখাচ্ছিল।ওই সময় অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম প্রধানিয়া সহ শিক্ষক সংশ্লিষ্টরা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন।স্কুলটির শিশু শিক্ষার্থীদের বোবা কান্না দেখে বিদায়ী ইউএনও তার তিনটি সন্তানের মুখের পাণে তাকিয়ে নিজেকে সামলে নিচ্ছিলেন। পেরেছেন কিনা জানিনা ? এমন করুণ বেদনাবিধূর মূহুর্ত তাকিয়ে শুধু দেখছিলেন,সদ্য যোগ দেওয়া নির্বাহী অফিসার শিরীণ আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) উম্মে হাবিবা মীরা।

content_copyCategorized under