প্রথম পাতা , বর্ণালী , চাঁদপুর সদর , বিনোদন , শীর্ষ খবর , চেনা অচেনা

শরীফ চৌধুরী বাংলাদেশ অভিনয় শিল্পী সংঘের সদস্য নির্বাচিত

person access_time 1 year ago access_time Total : 312 Views

স্টাফ রির্পোটার : অভিনয় শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মঞ্চ ও টেলিভিশনের অভিনেতা সাংবাদিক শরীফ চৌধুরী।¬ এক সময় শরীফ চৌধুরী চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারন সম্পাদক বিশিষ্ট অভিনেতা আহসান হাবিব গত ৫ মে শরীফ চৌধুরীর হাতে অভিনয় শিল্পী সংঘের আইডি কার্ড তুলে দেন। টেলিভিশন নাট্যশিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত এ সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় ঢাকা গুলশানে। অভিনয় শিল্পী সংরে সভাপতি সহিদুজ্জামান সাচ্চু।
শরীফ চৌধুরী ছোট বেলা থেকেই নাট্য ও সংগীতচর্চার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। খেলাঘর থেকে বেশ কয়েকটি নাটক মঞ্চায়ন করেন। বর্তমানে খেলাঘর জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ১৯৮৩ সালে চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সদস্য সংগঠন বর্ণচোরা নাট্য গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়ে নিয়মিত নাট্যচর্চা শুরু করেন। মঞ্চে নাটকে অভিনয় এর পাশাপাশি নির্দেশনাও দেন। চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় তিনি জাতীয় শিশু সংগঠন খেলাঘর এর আসর সংগঠন বনানী খেলাঘরের সাথে জড়িত হন। সেই থেকে সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশনেন তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রথম খেলাঘরের পক্ষ থেকে চাঁদপুর টাউন হলে, এসএম জয়নাল আবেদীনের লেখা “ছুটি” নাটকে অভিনয় করেন। পাশাপাশি শুরু হয় সংগীতচর্চাও। তিনি একসময় ওস্তাদ শীতল ঘোসাল, স্বপন সেনগুপ্ত, সুরেশ দাস ঝন্টু ও অসীমা সেন চৌধুরীর কাছে সংগীতের তালিম নিয়ে ছিলেন। নাটকে তার প্রথম ওস্তাদ মোহসীন কায়েস। মঞ্চ ও টেলিভিশনের নাটকে অভিনয়ের জন্য সবচেয় বেশী কৃতজ্ঞ আক্রাম খান, শুকদেব রায়,লিটন ভূইয়া, ঢাকার আরজু, গিয়াস উদ্দিন,মাসুম আজিজ, রূপক রায়, জিয়াউল আহসান টিটোর কাছে।
শরীফ চৌধুরী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক “এক আসমান খোয়াব” এর অভিনয়ের পাশাপাশি প্রধান সমন্বয়কারির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা সৌম্য সালেহের রচনায় সাহিত্য নির্ভর নাটক “আমরা তিনজন” ও মূল্যেবোধের নাটক “ প্রিয় দর্শন” দু’টি নাটকেরই নিদের্শনা দিয়েছেন। যা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চায়নের পর ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এ যাবৎ শরীফ চৌধুরী মঞ্চে ৩৪/৩৫টি নাটকের প্রায় ও দেড় শতাধিক মঞ্চায়ন সম্পন্ন করেছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নাট্যাভিনেতা হিসেবে। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চ নাটক গুলো হলো “লালন নাম” “সাহাজান “ জমিদার দপর্ণ” “এইদেশে এইবেশে” “ পৌরানীক” “শেকড়” “বিচ্ছু” “ গিট্ঠু” “চারিদিকে যুদ্ধ” “আজকাল” “ভোরের মিছিল” “বৌদির বিয়ে” “মধুরেণ” “অদল বাদল” “খান্দানী কিস্সা”, “রাষ্ট্র বনাম” “এক আসমান খোয়াব” “ প্রিয় দর্শণ ইত্যাদি। শরীফ চৌধুরী’র নির্দেশিত বর্ণচোরা নাট্য গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি নাটক বেশ সুনাম অর্জন করেছে।
১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শরীফ চৌধুরী বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের “আজকের প্রতিবাদ” ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। তারপর একে একে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৮টি চলচ্চিত্রে দাফটের সাথে অভিনয় করেন এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য ভুক্ত হন। তার উল্লেখ্য যোগ্য ছবিগুলো হলো “আজকের প্রতিবাদ”, “বিক্ষোভ”, “ মৌমাছি”, বিদ্রোহী প্রেমিক”, “লালন”, জনতার শক্র”, “দ্বন্ধ”, “সৎ মানুষ। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত টেলিভিশনেও অভিনয় শুরু করেন। বর্তমানেও তিনি টেলিভিশনে অভিনয় করে যাচ্ছেন। এ যাবৎ তিনি বিটিভি সহ বিভিন্ন চ্যানেলে ৩০/ ৩৫টি নাটকে অভিনয় করেছেন। টেলিভিশনে অভিনীত তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক গুলো হলো অন্য মুক্তিযোদ্ধা (টেলিফ্লিম), পিচ্চি হাজতি, জলদেবী(টেলিফ্লিম), পানি ও রোকসানা, সেঞ্চুরী আঁকাশ ছোয়া, কেউ ভোলেনা কেউ ভোলে, উপসংহার, নীড় নির্বাসন, আন্ডুল, মোশা মারতে লাগেনা কামান, সম্পাদ্য-উপপাদ্য, গাংচিলের ভালোবাসা, অধিক ফলন সুখের মিলন, যেখানে সিমান্ত, তবুও আমি। মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী ডুকুড্রামা ‘শুভ সকাল’ এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন। নির্বাচন সংক্রান্ত এবং সেবক ফ্রিজ সহ কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেন তিনি। বর্তমানে শরীফ চৌধুরী বাংলাদেশ অভিনয় শিল্পীর সংঘের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময় ঢাকায় নাটকের উপর কর্মশালা ও প্রশিক্ষনে অংশ নিয়েছেন।
চাঁদপুরের একজন সক্রিয় নাট্যাভিনেতা ও নিদের্শক শরীফ চৌধুরী ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবর চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রথম বারের মত গণতান্ত্রিক প্রদ্ধতিতে নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ৩ বছর। এরপর সক্রিয়ভাবে শিল্পকলার সাথে জড়িত থেকে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষে ৩ বারে প্রায় ৮/৯ বছর জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। বর্তমানে শিল্পকলার নাট্য বিভাগের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বে থাকাকালিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৩টি নাটকের গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সফলভাবে মঞ্চায়ন করেন চাঁদপুর ও ঢাকায়। তিনি বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ২ দিনব্যাপী গণ সংগীত উৎসব ২০১৪ এর সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। যা বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় চাঁদপুর কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ২১ ও ২২ মার্চ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। শরীফ চৌধুরী কমিউনিটি পুলিশিং, চাঁদপুর জেলা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯২ সালে চাঁদপুরে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। যার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সক্রিয় ভাবে জড়িত থেকে র্দীঘ ২৫ বছর নিবেদিত ভাবে কাজ করেছেন একজন প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে। করেছেন নাটক, গেয়েছেন গান এবং প্রতিনিয়ত বিজয় মেলা মঞ্চে উপস্থাপনা করে দর্শক নন্দিত হয়েছেন নাট্যাভিনেতা শরীফ চৌধুরী। বন্ধন নামে একটি ঈদ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের সেরা নাট্যাভিনেতা হিসেবে শরীফ চৌধুরীকে সংবর্ধনা স্বীকৃতি দেয়া হয়। নাট্যজন হিসেবে মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলায় দেয়া হয় আজীবন সম্মাননা পদক। এছাড়াও শরীফ চৌধুরীকে সংবর্ধিত করেছেন অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী, সপ্তরূপা নৃত্যশিক্ষালয়, অরূপ নাট্যগোষ্ঠী, চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন, মৈশাদী সপ্তর্ষী খেলাঘর আসর, চাঁদপুরস্থ ফরিদগঞ্জ ফাউন্ডেশন, নতুন কুড়ি। ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক রূপসী চাঁদপুর পত্রিকায় লেখার মধ্যদিয়ে শরীফ চৌধুরীর সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। ১৯৯০ সালে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক রূপসী বাংলার চাঁদপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় চাঁদপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে শরীফ চৌধুরী দৈনিক চাঁদপুর দপর্ণ এর প্রধান সম্পাদক এর পাশাপাশি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল আর টিভির স্টাক রিপোর্টা এর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯০ সালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৩ সালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৭ সালে প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন শরীফ চৌধুরী। ২০১১ সালে চাঁদপুরে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম এবং দীর্ঘ দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার উপর তিনি ১১/১২টি প্রশিক্ষন নিয়েছেন।

content_copyCategorized under