প্রথম পাতা , চাঁদপুর সদর , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ

রায়ে সন্তুষ্ট তবে প্রধান পরিকল্পনাকারীর সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশা ছিল-আবু নঈম পাটওয়ারী

person access_time 2 months ago access_time Total : 77 Views

স্টাফ রিপোর্টার ঃ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেছেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি, আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য পেয়েছি। মহামান্য আদালতের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে ইতিহাসের জঘন্যতম এই বর্বরোচিত ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার হত্যাকা-ের প্রধান পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশা ছিল এ দেশের গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষের। তারপরও বিগত ১৪ বছর পর আমরা এই জঘন্য হত্যাকা-ের বিচার কার্য্য সমাপ্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছি। আবারো প্রমান হলো বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং বিদ্যমান। তিনি আরো বলেন, আমরা আশাকরি যতদ্রুত সম্ভব সকল আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই রায় কার্যকর করা হবে। আর এই রায়কে নিয়ে কোন গোষ্ঠী যদি কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারনা করতে চায় জেলা আওয়ামীলীগসহ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। ২১ আগষ্টের হত্যাকা-ের রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে আওয়ামীলীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। রায় ঘোষইার পর উপস্থিত নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ সরদার, শহীদ উল্যাহ মাস্টার, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন পাটওয়ারী (এনডু), শাহির হোসেন পাটওয়ারী, সদস্য আইয়ুব আলী বেপারী, পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা বাবু, নূরনবী পাটওয়ারী, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুলসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলী, মহিলা আওয়ামীলীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাটি চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতা-কর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে তত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২। মোট ৫২ আসামির মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদন্ড অন্য মামলায় কার্যকর হয়। তিনজনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে। ৪৯ আসামীর মধ্যে গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে অপর ১১ আসামিকে। আদালত রায়ে দন্ডিতদের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেন। এছাড়া এ মামলায় পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আদেশ দেন আদালত।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under