প্রথম পাতা , চাঁদপুর সদর , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , জাতীয়

মেঘনায় পুরান বাজার হরিসভা এলাকায় ২শ’ মিটার ডেবে গেছে ॥ ৩১ বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন

person access_time 4 months ago access_time Total : 145 Views

স্টাফ রিপোর্টার ঃ চাঁদপুর মেঘনা নদীর শহর রক্ষা বাঁধের ২শ’ মিটার ব্লক ধ্বসে পুরাণ বাজার হরিসভা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্বহত রয়েছে। এছারা ভাঙনে হরিসভা এলাকার ৩শ’ মিটার এলাকাজুড়ে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। রোববার বিকাল পর্যন্ত ওই এলাকার সেমি পাকা ও টিনের ৩১টি বসতঘর ভেঙে নদী গর্ভে বিলিন হয়েগেছে। হুমকির মুখে রয়েছে মানুষের আরো বসতঘর, হরিসভা মন্দিরসহ চলাচলের সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। হুমকির মুখে থাকা বহু বসত ঘর ভেঙে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ইতমধ্যে ওই এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ভাঙন শুরু হয়। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থলে বালি ভর্তি ৫শ’ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে। রাতের বেলা ৪টি বসতঘর পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে নদীগর্ভে বিলীন হয় ১৫টি বসতঘর ও দোকানপাট।

সর্বমোট ৩১টি পরিবার এখন ভিটে ছাড়া।
নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবহারগুলো হলো- হরিসভা এলাকার গুপিনাথ সাহা, আদিনাথ সাহা, সম্ভুনাথ দে, সুশান্ত দে, মানিক সাহা, সঞ্জয় চক্রবর্তী, বিমল দে, দ্বীপক দে, ধ্রুবরাজ সাহা, সুনীল দে, শ্যামল দে, ওয়াদে আলী শেখ, অঞ্জু শেখ, আমজাদ আলী মুন্সি ও কার্তিক সাহাসহ আরো অনেকে। এদিকে ভাঙ্গনের খবর মিডিয়াতে প্রচারিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাঙ্গনস্থল পরিদর্শণে আসেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পরেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি। গত বছরও একই স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয় সাংসদ ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি রক্ষায় স্পেশাল বরাদ্দ দেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন না করায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ভাঙন অব্যাহত থাকলে মানুষের বসতঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, মন্দিরসহ পুরানবাজার এলাকা নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার আশংঙ্কা রয়েছে। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির চাঁদপুর দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন,

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ও উদাসীনতাই ভাঙ্গনের মূল কারণ। তিনি বলেন, বিগত এক মাস পূর্বে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অবহিত করেন যে, যে কোন সময় এলাকাটি নদীতে বিলীন হতে পারে। তারা তখন আমাদের বলেছেন, তাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু এর পরে আর তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যার ফলে আজকে এই নদী ভাঙন। পানি উন্নয়ন কর্মকর্তাদের অবহেলায় আজকে পুরানবাজার এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।


চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ৫শ’ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহান্মদ আলী মাঝী জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ভাঙন শুরু হয়ওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে নদী পাড় থেকে সরানোর ব্যাবস্তা করি। এপর্যন্ত ৩১টি পরিবার তাদের ভিটে হারিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আপাকে অবহিত করারা সাথে সাথে তিনি পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করলে রাতেই ভাঙন প্রতিরোধে বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলা শুরু করেছে তারা।


পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, গত কয়েক বছরই একই স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। পুরাণ বাজার এলাকার বাকী অংশ ভাল থাকলেও প্রায় ২শ’ মিটার এলাকায় প্রতিবছর সমস্যা হচ্ছে। আমরা তাৎক্ষনিক জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। পরবর্তীতে ব্লক পেলে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হবে।

content_copyCategorized under