প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , মতলব উত্তর

মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন ৪ বছর যাবৎ অকেজো

person access_time 3 months ago access_time Total : 398 Views

শামসুজ্জামান ডলার/জহিরুর হাসান মিন্টু, মতলব উত্তর ঃ গত চার বছরেরও অধিককাল ধরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এতে উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ সরকারি হাসপাতালটিতে এর সেবা পাচ্ছে না। রোগীদের বাড়তি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। গত ৪ বছর আগে স্থানীয় এমপি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম)-এর সহায়তায় ১ কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিনটি গ্রামীন এই উপজেলার দরিদ্র মানুষদের সেবার জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু কেবল একজন রেডিও গ্রাফারের অভাবে অত্যাধুনিক এই মেশিনটি দীর্ঘ্যদিন জনগণের কোনো কাজে আসেনি। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট(রেডিও গ্রাফার) আনা হলেও এক্স-রে মেশিনটি কাজের জন্য প্রত্তুত(ইনিষ্টুল) করা যাচ্ছে না বলে রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক্স-রে মেশিনটি যে কোম্পানী থেকে আনা হয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানাগেছে, কোম্পানী এ এক্স-রে মেশিনটি এক বছরের ওয়ারেন্টি দিয়েছিল। কিন্তু এক্স-রে মেশিনটি মতলব উত্তর উপজেলায় ৪বছর আগে আনার কারনে ওয়ারেন্টির সময়ও চলে গেছে। অন্যদিকে, এক্স-রে মেশিনটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলায় বসানোর কথা থাকলেও সেখানে কোনো কক্ষ না পাওয়ায় নিচতলাতেই আছে এবং এমদম অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে এক্স-রে মেশিনটির ব্যাপারে কি করা যায় সে নিয়ে চলছে চিঠি চালাচালি কিন্তু তাতেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার সৈয়ালকান্দি গ্রামের তজিব উদ্দিন সরকার (৬০) জানায়, উপজেলার সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে সেবা না থাকায় ছেঙ্গারচর বাজার অথবা মতলবে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও চিকিৎসা ব্যয় বেশি লাগছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০৮ সালে এই উপজেলায় সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর এক্স-রে মেশিন না থাকার সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কপাল খুলে যায়। পরে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন পেলেও রেডিও গ্রাফারের অভাব ও স্থাপনে সমস্যার কারনে চার বছর যাবৎ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার সাহা জানান, অবশেষে রেডিও গ্রাফার পেলেও এক্স-রে মেশিনটি ব্যবহার উপযোগী হিসাবে স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে এর সেবা দেয়াও যাচ্ছে না। মেশিনটির ওয়ারেন্টিও শেষ তাই পরবর্তী করনীয় পদক্ষেপের জন্যে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under