প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , মতলব উত্তর

মতলব উত্তরে ২বছরে স্কুল পড়–য়া ১২শতাধিক মেয়ে বাল্য বিয়ের শিকার

person access_time 3 months ago access_time Total : 44 Views

শামসুজ্জামান ডলার,মতলব উত্তর অফিস ঃ চাঁদপুরের চরাঞ্চল সমৃদ্ধ ও ১৪ইউনিয়ন ১পৌরসভার মতলব উত্তর উপজেলায় আশঙ্কা জনক হারে বাল্য বিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কোন ধরনের তথ্য না থাকলেও অনুসন্ধান মতে এ উপজেলায় গত ২ বছরে স্কুল পড়–য়া ১২শতাধিক মেযে বাল্য বিয়ের শিকার। এ উপজেলা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫১টি। এর মধ্যে ৩৯টি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১২টি মাদ্রাসা। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়–য়া মেয়েদের বিয়ে হবার পর বেশীরভাগ মেয়েরাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঝড়ে পরে। বাল্যবিয়ের শিকার খুব সামান্য সংখ্যক মেয়েরাই লেখাপড়া চালিয়ে যাবার সৃুযোগ পায়। মতলব উত্তর উপজেলার স্কুলগুলো বাল্যবিয়ের ব্যাপারে তথ্যদিতে না চাইলেও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখাগেছে এখানে গত ২বছরে ১২শতাধিক স্কুল পড়–য়া মেয়ে বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে। গত দু’বছরে এ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়–য়া কি পরিমান মেয়ে বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে তার চিত্রটা হলো- শরীফ উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়, এখলাছপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কালিপুর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রতিটি স্কুলে ৩০টি করে বাল্য বিয়ের খবর পাওয়া যায়। জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ে-২৬টি, নেদায়ে ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা ও বদরপুর আকবর আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়-২৪টি করে, চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২টি, নাউরী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগানবাড়ী আইডিয়েল একাডেমীতে-২০ টি করে, গাজীপুর কেএএল উচ্চ বিদ্যালয়-১৫টি বাল্য বিয়ে হবার খবর পায়া গেছে। শিক্ষকরা বাল্যবিয়ের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে না চাইলেও উপজেলার ১০টি স্কুলের শিক্ষকের সাথেই কথা বলে জানা গেছে, তাদের স্কুলে গত ২বছরে বাল্য বিয়ের সংখ্যা ২৪১টি। সে হিসেব মতে উপজেলার ৩৮টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১২টি মাদ্রাসাতে বাল্যবিয়ের সংখ্যা দাড়ায় ১২শ’ ২৯টি’র মতো। তবে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে এতথ্য দেয়া হলেও বিভিন্ন তথ্য মতে বাস্তবে বাল্য বিয়ের সংখ্যা আরো বেশী হবে। স্কুল পড়–য়া মেয়েদের মধ্যেই যদি বাল্য বিয়ের সংখ্য এতো হয়ে থাকে তবে ১পৌরসভা ও ১৪ইউনিয়নের এ উপজেলার বেশ ক’টি চর, কয়েকটি আশ্রয়ন প্রকল্প, একাধিক গুচ্ছগ্রাম ও বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর মধ্যে অনেকেরই সচেতনতার অভাব ও শিক্ষা পশ্চাৎপদতার কারনে সেখানে বাল্য বিয়ের সংখ্যা আরো বেশী বোই কম হবেনা। বিভিন্নভাবে খোজ খবরের ভিত্তিতে বাল্যবিয়েতে পুলিশের হানা, মোবাইল কোট পরিচালনা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেনতা মূলক সভা, বাল্যবিয়ে বিরোধী শপথবাক্য পাঠসহ নানা কার্যক্রমই হচ্ছে এ উপজেলায়। এতদসত্বেও গত ২বছরে এ উপজেলায় ১২শতাধিক বাল্যবিয়ে সংগঠিত হবার বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগ জনক। উপজেলার চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের করনীক জানায়, গত বছর ৮ম শ্রেনীর জেএসসি রেজিস্ট্রেশন করার সময় ৬জন মেয়ে যখন রেজিস্ট্রেশন করতে আসেনি তখন খবর নিয়ে জানাগেছে ঐ মেয়েদের বিয়ে হয়েগেছে। ওরা এখন ঘর সংসার করছে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন ওদের আর লেখা-পড়া করাবে না। নকল বা মিথ্যে তথ্যেও জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব বিয়েগুলো রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পাস্পরিক সমন্ময়ের ভিত্তিতে বিয়ে হয়ে যায় কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি বাকী থাকে। এখানকার বাল্য বিয়েগুলোর বেশীরভাগই অবিভাবকদের অসচেতনতার কারনেই হয়ে আসছে। কিন্তু মতলব উত্তর উপজেলায় সচেতনতামূলক সভা ও বাল্যবিয়ে বিরোধী শপথবাক্য যা হচ্ছে তা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাথেই হচ্ছে। অভিভাবকদের সাথে এ ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে যতসামান্য। বাল্য বিয়ের ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাইয়ূম খান জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে বাল্য বিয়ে সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই বা বাল্য বিয়ের বিষয়ে কোন তথ্য আমাদের সংগ্রহ করতে হয় না। এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে যোগাযোগকালে তারা জানায়, এ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি পরিমান শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার সে ধরনের কোন তথ্য আমাদের দপ্তরে নেই। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, যেখানেই বাল্য বিয়ে প্রস্তুতির খবর পাই সেখানেই ছুটে যাই সেটা দিন কিংবা গভীর রাত। বাল্য বিয়ে সাধারনত রাতের বেলাতেই আয়োজন হয়ে থাকে। তবে আমি অবাক হই যখন দেখি গেইট বানিয়ে দিনের বেলায় ঝাকঝমকভাবে বাল্য বিয়ের আয়োজন করে। তবে, আমি গত এক বছরে নিজে গিয়ে, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য মাধ্যমে বাল্য বিয়ে বন্ধ করি এর পরিমান অর্ধশত হবে।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under