প্রথম পাতা , মতলব উত্তর , অনামিকা

মতলবের মেঘনায় অভয়াশ্রমের সময়ে স্থানীয় বাজার ও মাছের আড়ৎগুলো রমরমা

person access_time 1 year ago access_time Total : 301 Views

শামসুজ্জামান ডলার ঃ মার্চ-এপ্রিল দু’মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রমের কারনে সকল প্রকার মাছ ধরার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই এ সময়ে স্থানীয় বাজার ও মাছের অড়ৎগুলোতে মেঘনা নদীর মাছ বিক্রি না করার কথা থাকলেও স্থানীয় আড়ৎ ও বাজারগুলো মেঘনার মাছে চলছে রমরমা। মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ২৫কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকা। মেঘনার দু’পাড়ে বাজার ও আড়ৎগুলোতে অভয়াশ্রমের মেঘনা নদীর মাছ দেখা যাওয়ার কথা না থাকলেও মেঘনার দু’পাড়ের নিকটবর্তী ১৪টি’র মতো বাজার ও ৪টি আড়তে এসময়ে নিষিদ্ধ এলাকার মাছে রমরমা অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু তাই না, এখানকার মাছে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ৬/৭টি পিকআপ ভ্যান ও ছোট ট্রাকে করে মাছ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা শহরে। বিকাল বেলাতে পিকআপ ভ্যানগুলো স্থানীয় আড়ৎগুলোর কাছাকাছি এসে থাকে এবং মাছ বোঝাই করে মধ্য রাতে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। মাছ সংরক্ষনের জন্য এ উপজেলার আড়ৎগুলোর চাহিদা মিটাতে প্রতিদির একটি বড় ট্রাক আসছে বরফ নিয়ে। উপজেলা বিভিন্ন বাজারে মাছ সরবরাহ করার জন্য ব্যবহার হচ্ছে রিক্সা, ভ্যান ও ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ি।
মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেঘনার অভয়াশ্রমে মৎস্য শিকারের ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি মেঘনা সীমানায় কোষ্টগার্ডের ক্যাম্প বসানো হয়েছে। মৎস্য সংরক্ষনে এ উপজেলায় কাগজে-কলমে রয়েছে শক্তিশালী একটি ট্যাক্সফোর্স(সমন্মিত কমিটি)। কিন্তু মেঘনা নদীর নিষিদ্ধ অঞ্চলে অবাধে মৎস্য শিকার, পরিবহন ও বাজারজাতে ফ্রি স্টাইল দেখে স্থানীয় সচেতন মহল হতবাক। অনেকে বলাবলি করছে মৎস্য সংরক্ষনে এখানে উপজেলা ট্যাক্সফোর্স আছে তো ?
অভয়াশ্রমের মেঘনায় দিনের আলোয় নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য তুলনামূলকভাবে কম দেখাগেলেও রাতের আধাঁরে সরকার ঘোষিত অভয়াশ্রমের মেঘনা থাকছে মৎস্য শিকারী জেলেদের দখলে। ভোরের আলোয় মেঘনা নদীর তীরে সাড়ি সাড়ি নৌকায় ভর্তি ভিজা জাল লক্ষ্য করা যায়।
সরেজমিনে উপজেলার সর্ববৃহৎ মাছের আড়ৎ ষাটনলের বাবু বাজার মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে অসংখ্য পাইকারী ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল। মাছ বেচা-কেনার দাম-দরের কাজে ব্যস্ত সবাই। মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেঘনায় মাছ ধরা ও বেচে-কেনা বন্ধের ব্যপারে আমরা কাজ করছি। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, স্থানীয় হাট-বাজার ও মৎস্য অড়ৎগুলোতে মেঘনার মাছ বিক্রি বন্ধের ব্যপারে আমাদের মনিটরিং অব্যহত রয়েছে।

content_copyCategorized under