প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , মতলব দক্ষিণ , মতলব উত্তর

মতলবের কৃতি সন্তান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনী

person access_time 3 weeks ago access_time Total : 63 Views

শ্যামল চন্দ্র দাস ঃ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মতলবের মাটি ও মানুষের অহংকার মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি ১৯৪৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর জেলার বৃহত্তর মতলব উপজেলার মোহনপুরের সমভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আলী আহম্মদ মিয়া, মাতা-মরহুমা মোসা. আক্তারুন্নেছা। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাসে এমএ পাশ করেন। পরে তিনি এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। জনবান্ধব ও সঙ্গীত পিপাসু মায়া চৌধুরী মিউজিক কলেজ থেকে আই মিউজিক পাশ করেন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলতা অর্জন করেন। ১৯৭১ সালের জুন মাস। একদল গেরিলা যোদ্ধা রাজধানী ঢাকা শহরে ভয়াবহ আক্রমণের পরিকল্পনা করছিলো। এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুুদ্ধকালীন ২নং সেক্টরের ক্র্যাক প্লাটুন সদস্য। তাদের টার্গেট হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত বিদেশি পর্যটক, রাষ্ট্র্রদূত ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশে চলমান ভয়াবহ মুুক্তিযুদ্ধের বার্তা পৌঁছানো। দিনের আলো পেরিয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই ক্র্যাক প্লাটুন সদস্যদের বোমার ভয়াবহ শব্দে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল’সহ আশেপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। বিশ্বের মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছালো বাংলাদেশে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এ অপারেশনে নেতৃত্বে ছিলেন মতলবের কৃতিসন্তান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধকালীন সময়ে ২নং সেক্টরের ক্র্যাক প্লাটুনের কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ খেতাব লাভ করেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ১৯৭২ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ নির্ভীক কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং চতুর্থবারের মতো ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন দীর্ঘ বছর। পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে জাতীয় চার নেতার সাথে দীর্ঘ তিন বছর কারারুদ্ধ থাকার পর হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে মুুক্তি লাভ করেন। মতলব উত্তর উপজেলার সমভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারের সদস্যগণ ও আত্মীয়-স্বজনরাই এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি’র পিতা মরহুম আলী আহম্মদ মিয়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছর সুনামের সহিত মতলব উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করেছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ১৯৯৬ সালে ২৬১ চাঁদপুর-২ আসন (মতলব উত্তর) থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন, ২০১৪ সালে একই আসন (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) থেকে দ্বিতীয় বারের মত বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ১৯৯৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সফলতারসহিত দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৮-২০০১ সাল পর্যন্ত নৌ-পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন দেশপ্রেমিক জনবান্ধব মানুুষ হিসেবে এলাকার একাধিক স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। মতলব উত্তর উপজেলা, মতলব পৌরসভা ও ছেংগারচর পৌরসভা, মতলব সেতু, শিল্পকলা একাডেমীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠাতা। মায়া চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, মসজিদ-মন্দির নির্মাণ করে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে, উন্নয়নের মাইলফলক রেখেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। স্ত্রী পারভীন চৌধুরী। তিনিও মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। স্বামীর পাশাপাশি তিনিও মতলবের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। পারভীন চৌধুরী মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেষ্ঠ্য পুত্র সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপু। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রাক্তন সদস্য ও ছেংগারচর ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সিএনজি এসোশিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বেশি সম্পৃক্ত থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতিকসহ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) নির্বাচনী এলাকায় পিতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের নৌকা প্রতীকের বিজয়ের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকার লোকজনদেরকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under