প্রথম পাতা , ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষিত ঃ দুর্নিতির অভিযোগ

person access_time 4 months ago access_time Total : 55 Views

আবু হেনা মোস্তফা কামাল: সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফরিদগঞ্জে চলছে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে চলছে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য ক্ষোভ বিক্ষোভ। এ ক্ষোভ বিক্ষোভ ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সমানতালে দেখা গেছে। একদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষিত। অন্যদিকে পরীক্ষা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে এ ক্ষোভ বিক্ষাভ চলছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার ধানুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে অস্থিরতা। গতকাল শনিবার কথা হয় ফরিদগঞ্জের এ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের সঙ্গে। পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে তিনি অবহিত নন বলে জানিয়েছেন । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, শ্রেণী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ পরীক্ষার চাপ কমাতে বছরে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিবছরই উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ত্রৈমাসিক নামে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এসব পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে সংকট তৈরী হয়। এ সংকটের মূল কারণ অর্থ বাণিজ্য। কোথাও তৈরী হয় অচলাবস্থা। এর মধ্যে অন্যতম ধানুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নিশেধ উপেক্ষা করে বিধি বহিঃর্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নিচ্ছেন। এতে ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে সকল শ্রেণিপাট বন্ধ রেখে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত একযোগে পরীক্ষা চলছে। তাড়াহুড়ো করে দুই শিফটে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে, শ্রেণিপাঠ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফি বাবদ ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো প্রকার রসিদ দেওয়া হয়নি। অভিভাবক প্রতিনিধি ফারুক শহিদী খান বলেন, প্রথমে মে মাসের সাত তারিখে পরীক্ষার তারিখ ধার্য করেন প্রধান শিক্ষক। মার্চ মাসের ২৭ তারিখে আমরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা গ্রহণে আপত্তি করি। এতে, তিনি পরীক্ষা স্থগিত করেন। কিন্তু, সম্পূর্ণ এক তরফাভাবে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ২৮-এ এপ্রিল পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তিনি দাবী করেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী, সদস্য আবুল কালাম খান, অভিভাবক আবুল বাসার গাজী, দুলাল গাজী, নাছির উদ্দিন, আহ আলমসহ অনেকেই পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেন। তিনি কারও অনুরোধই মানেননি। অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক নিজে কুমিল্লা থেকে ক্রয়কৃত রেডিমেইড ছাপানো প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন। পরীক্ষা ও উত্তরপত্রের জন্য কাগজ কলমসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি নিজেই চাঁদপুর থেকে ক্রয় করেন। বিদ্যালয়ের সকল প্রকার কেনাকাটা তিনি নিজেই করেন। ভাউচার পাশ করার ধার ধারেন না। জানা গেছে, এর আগে বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা বাবদ ৮৪ হাজার টাকা খরচ করেছেন। গত প্রায় এক বছর পূর্বে বিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভে সিসি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে ক্যামেরা মেরামতের নামে গত কয়েকদিন পূর্বে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরট করেছেন। সদস্যদের দাবী, ক্যামেরা কোথা থেকে আনা হয়েছে তা প্রধান শিক্ষক জানাতে চান না। তাদের দাবী, ক্যামেরা, মাইক, কাগজ, কলম, খাতা ইত্যাদি ক্রয় ও মেরামতের তিনি বিপুল অংকের টাকা তসরুফ করেন। তদন্ত করলে সত্যততা বেরিয়ে আসবে। অভিবাবক আবুল বাসার বলেন, কয়েক মাস পূর্বে অভিভাবকদের এক সভায় প্রধান শিক্ষক এর নামে ১৯টি দুর্নিতির অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলা হয়েছে। তাদের দাবী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার হয় না। তাই আমার প্রত্রিকান্তরে সরকারে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যেখানেই এমন অভিযোগ আছে, সেখানেই চলছে নানা অস্থিরতা। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তোলা টাকার বন্টন নিয়ে প্রধান শিক্ষক এর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের সম্পর্ক ভালো থাকে না। যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর। প্রশ্ন প্রস্তুত করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেছেন, আমরা করিনি। এদিকে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান কুমিল্লা থেকে প্রশ্ন আনা, ক্যামেরা ক্রয় মেরামত, স্টেশনারীজ মালামাল ক্রয়ের কথা স্বীকার করে বলেছেন, এখানে কোনো দুর্নিতি নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে ক্যামেরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, টেকনিশিয়ান এর নাম, প্রশ্নপত্র ও সেটশনারী মারামাল ক্রয় বাবদ খরচের অংক জানাতে পারেননি। অন্য প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এটা সাময়িক পরীক্ষা না। এটা টিউটোরিয়াল পরীক্ষা। তিনি দাবী ও প্রশ্ন করেন, আমার প্রতিবেশী প্রত্যাশী আর. এ ও চির্কা চাঁদপুর স্কুলেও আমার মতোই পরীক্ষা নিচ্ছে। কোই, তাদের তো কোনো সমস্যা হয়নি। এ ব্যপারে গতকাল শনিবার বিকালে কথা হয় একাডেমিক সুপারভাইজারের সঙ্গে। তিনি বলেন, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা হয় ক্লাশ চলাকালীন সময়ে। কোনো প্রকার ক্লাশ বন্ধ থাকবে না, ফি নেয়া যাবে না। ক্লাশ বন্ধ রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে একযোগে সকল ক্লাশ এর পরীক্ষা নেয়ার নাম টিউটোরিয়াল পরীক্ষা না। তিনি দাবী করেন এভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে আমরা জানি না। কোনো অভিভাবকও আমাদের জানায়নি।

content_copyCategorized under