প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ফরিদগঞ্জ , ব্রেকিং নিউজ

ফরিদগঞ্জে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ঃসাদা কাগজে সহি স্বাক্ষর নিয়ে ১০ হাজার টাকা প্রদান

person access_time 6 months ago access_time Total : 126 Views

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদগঞ্জে এস.এন. রঞ্জু রানী পালের আনাড়ি হাতে আবারও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের মায়ের নাম সুমী আক্তার। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ হলে গোপন সমঝোতা হয়েছে। দশ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়েছে সুমীর স্বামীর হাতে। এ জন্য সাদা কাগজে সহি-স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে মর্মে ভুক্তভোগী পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন। এস.এন. রঞ্জু রাণী ডাক্তার পরেশ চন্দ্র পালের স্ত্রী। তিনি একজন সেবিকা ছিলেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই এস.এন. রঞ্জু রাণী’র পক্ষ হয়ে এলাকার একটি মহল জোড়ালো ভূমিকায় রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ সদর এলাকায় ডাক্তার পরেশ চন্দ্র পালের বাসায়। ডাক্তার না হয়েও রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা নিয়ে রঞ্জু রানী পালের এলাকায় রয়েছে ব্যপক আলোচনা, সমালোচনা ও ক্ষোভ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এস আই নাছির উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ হরা হয়নি। এক পর্যায়ে সুমী আক্তারের স্বামী ইসমাইল হোসেন রুবেল’র কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে সই নেয়ার পর সুমী ও তার স্বামীকে বাড়ি চলে যেতে বাধ্য করো হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সুমীর পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে জোর পূর্বক ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে তাদের বিদেয় করা হয়। সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব সন্তোষপুর গ্রামের সুমী আক্তার (২২)। গত ২১-এ আগস্ট দুপুরে প্রসব তার প্রসব বেদনা উঠে। এতে তিনি ডাক্তার পরেশ চন্দ্র পালের স্ত্রী রঞ্জু রানীর বাসায় যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষে পরদিন ভোরে রঞ্জু রানী বলপ্রয়োগে সুমী আক্তারের এক মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করান। মৃত নবজাতকের মাথায় কাঁচির কাটা দৃশ্য দেখে সুমী আক্তার ও তার স্বামী চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি করেন। তিনি বলেন, রঞ্জু রাণী তার বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। প্রসবে ধীর্ঘ সূত্রীতা হওয়ায় সিজার করে বাচ্চা প্রসবের জন্য আঁকুতি করলে রঞ্জু রানী পালের বাধার মুখে পড়েন তারা। এদিকে, রঞ্জু রানীর অপচিকিৎসায় নবজাতক মারা যাওয়ার গেছে মর্মে সুমীর পক্ষ থেকে ফরিদগঞ্জ থানার ওসির বরাবরে অভিযোগ দেয় হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এস.আই. নাছির উদ্দীন ঘটনাস্থল ডাক্তার পরেশ চন্দ্র পালের বাসায় যান। এক পর্যায়ে সুমী আক্তারের স্বামী ইসমাইল হোসেন রুবেলের সহি-স্বাক্ষর নিয়ে তার স্বামীর হাতে ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে থানার এস.আই. নাছির উদ্দীন বলেন, রোগীর পরিবারটি গরীব বলে তাদের হাতে ডাক্তারের পক্ষ থেকে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি সুরাহা করে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত রঞ্জু রানীর কাছে উক্ত অভিযোগের বক্তব্য চাইলে তিনি এ বিষয়ে তার স্বামী ডাক্তার পরেশ চন্দ্র পালের সাথে কথা বলতে বলেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপন বলেন, রঞ্জু রানী পাল একজন অবসর প্রাপ্ত নার্স। গর্ভবতী রোগী’র জন্য এখন আমাদের সরকারী হাসপাতাল, কমিনিউটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার এবং ভিজিটর রয়েছেন। কিন্তু রঞ্জু রানী পাল ডাক্তার না হয়েও কোন আইনে রোগীর চিকিৎসা কিংবা গর্ভবতি রোগী দেখেন তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরো বলেন, গর্ভবতি রোগীর বাচ্চা প্রসবে পরিস্থিতি খারাপ হলে রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষনিক সরকারী হাসপাতালে রেফার করতে হয়। কিন্তু তা না করে রঞ্জু রানী পাল নিজ বাসায় বসে প্রসূতি রোগী রেখে যেভাবে প্রসব করান তা সম্পূর্ন অনৈতিক। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

content_copyCategorized under