প্রথম পাতা , ফরিদগঞ্জ , ব্রেকিং নিউজ

ফরিদগঞ্জে কাবিখার চাল বিক্রি হচ্ছে মুদি দোকানে

person access_time 4 months ago access_time Total : 69 Views

আবু হেনা মোস্তফা কামাল: ফরিদগঞ্জে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমারা চাল বিক্রি হচ্ছে মুদি দোকানে। এ চালগুলো কাবিখা কর্মসূচীর বলে জানা গেছে। জনৈক আব্দুস ছাত্তারের নামে গুদাম থেকে যাওয়া ডিও লেটারের একটি স্লিপও পাওয়া গেছে দোকানীর কাছে। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জের এসি ল্যান্ড আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় চান্দ্রা বাজারে ওই দোকান পরিদর্শন করেছেন। তবে, চাল বা কোনো ব্যক্তিকে আটক করেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ১নং বালিথুবা ইউনিয়নরে সকদী রামপুরের একটি রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ২টন গম বরাদ্দ দেয়া হয় (ডিও লেটার নং ৫৯৯৮, তারিখঃ ২৩-০৪-২০১৯ খ্রিঃ)। কিন্তু গোডাউনে গম না থাকায়, ২৩ তারিখেই গমের পরিবর্তে ১৩ শত ৫৬ কেজি চাল দেয়া হয়। আজ শনিবার বস্তা প্রতি ৩০ কেজি ওজনের ওই চাল স্থানীয় আব্দুর ছাত্তারের দোকানে বিক্রি হচ্ছিলো। চাল বিক্রির সময় স্থানীয় জনতা বস্তার গায়ে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ লেখা সিলমারা দেখতে পায়। এতে, তারা দোকানী আব্দুস ছাত্তার এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি এলোমেলো উত্তর দেন। তিনি একবার বলেন, এসব চাল চেয়ারম্যান আমাকে বিক্রি করতে দিয়েছে। আবার বলেন আমি এ চাল খাদ্য গুদাম থেকে এনেছি। সংশ্লিষ্ট ১নং বালিথুবা (পশ্চিম) ইউপির চেয়ারম্যান মো. সফিকুর রহমান পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে জানান, চালগুলো কাবিখার বরাদ্দের। আমি বলতে পারবোনা কিভাবে ওই দোকানে এ চাল বিক্রি হচ্ছে। আপনারা এই বিষয়ে উপজেলায় যোগাযোগ করেন। সূত্রে জানা গেছে, কাবিখা, টিআর ও ১০ টাকা কেজিসহ অন্যান্য বিশেষ বরাদ্দের চাল কোনো দোকানে বিক্রি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু, এসব প্রকল্পের বরাদ্দকৃত চালের মান এতাই খারাপ যে, ১০ টাকা কেজির চালও গরীব মানুষ কিনে নেয় না। ফলে, এ চাল সাধারণত কালো বাজার হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিশেষ ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যায়। স্থানীয়ভাবে যদি কোনো দোকানে বিক্রি হয়, তা সাধারণত গৃহ পালিত পশু ও হাঁস-মুরগির জন্য মানুষ কিনে নেয়। এদিকে, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আমি শুক্রবার রাতেই জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে আটক করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এ বিষয়ে এসি (ল্যান্ড) মমতা আফরিন আজ বিকালে বলেন, আমি ইউএনও’র নির্দেশে ওই দোকানে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে জানতে পারি ৪৫ বস্তা চাল বিক্রির জন্য সরকারী একজন উর্ধতন কর্মকর্তার ডিও লেটার আছে। ডিও লেটার থাকায় আমি কোনো মোবাইল কোর্ট করিনি। তবে, এ বিষয়ে ইউএনও স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী আফরোজ এর সরকারী মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

content_copyCategorized under