প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , শাহরাস্তি , ব্রেকিং নিউজ

পিলখানা হত্যাকান্ড ঃছেলে ও পুত্রবধুর হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শাহরাস্তির জুলেখা বেগম

person access_time 3 months ago access_time Total : 111 Views

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানা হত্যাকান্ডের আজ ১০ বছর । ঐদিন চাঁদপুরের শাহারাস্তির লেঃ কর্ণেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে বিডিআর বিদ্রোহিরা হত্যা করে । দীর্ঘ বছর পার হলেও এখনো হত্যাকারীদের বিচার রায় কার্যকর হয়নি। এদিকে নিহত লেঃ কর্ণেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেনের মা জুলেখা বেগম (১১০) তাঁর পুত্র ও পুত্রবধুর হত্যাকারিদের বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে চান। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি আজও অতীত স্মৃতি আঁকড়ে ধরে ন্যায় বিচারের প্রহর গুণছেন। শুধু একটাই চাওয়া কখন এ হত্যাকান্ডের রায় কার্যকর হবে, প্রিয়জন হারানোর দৃষ্টান্তমূলক রায় দেবে আদালত। জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বিডিআরের কিছু সংখ্যক বিপথগামী জওয়ানের নৃশংসতায় যে ক’জন সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছিলেন লেঃ কর্ণেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেন তাদের মধ্যে একজন। অবসরপ্রাপ্ত এ সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন বিডিআর সপ্তাহের দাওয়াতে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। বিডিআর’র নিহত ডিজি শাকিল আহমদ ছিলেন তাঁর ব্যাচম্যাট ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। বিডিআর বিদ্রোহের সময় শাকিল আহমদের বাসাতেই স্ত্রী রশনী ফাতেমা আক্তার লাভলীসহ ছিলেন তিনি। সরেজমিনে ২১ ফেব্রুয়ারি রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় লেঃ কর্নেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেনের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার গ্রামের পাটোয়ারি বাড়িতে গেলে তাঁর মা জুলেখা বেগম সাংবাদিকদের দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, “আজ ১০ বছর হলো আমার দেলুকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, খুনিরা আমার ছেলের বউটাকেও মাফ করেনি। আমার নাতনিরা বাবা মাকে হারিয়ে কত কষ্টে আছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আল্লাহর কাছে আমার মিনতি আমি যেন আমার পুত্র ও পুত্রবধুর খুনিদের বিচার দেখে মরতে পারি।” নিহত দম্পতির ২ কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে শারমিন ফাইরুজ লেখাপড়া সমাপ্ত করে চট্টগ্রামে স্বামীর সাথে রয়েছেন। ছোট মেয়ে নাজিফা ইসমাম ইংল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিষ্টনে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন। নিহতের বড় মেয়ে শারমিন ফাইরুজ মুঠোফোনে জানান, “হত্যাকান্ডের সময় আমি লন্ডন কলেজ অব একাউন্টেন্সিতে সিএ অধ্যয়নরত ছিলাম। আমার ছোট বোন নাজিফা ইশমাম সে সময় চট্টগ্রাম প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। ১০ বছর আগের সে দুর্বিষহ স্মৃতি আজো হৃদয়পটে ভেসে উঠে।’ তিনি জানান, মানুষের মা কিংবা বাবা বিদায় নিলে একজন হয়তো পাশে থাকে আমরা এমনই দুর্ভাগা যে দুজনকেই একসাথে হারিয়েছি। আজ সবই আছে শুধু মাথার উপরের সবচেয়ে বড় ছায়া দু’টি হারিয়ে গেছে”। এ হত্যাকান্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আদালতে মামলা বিচারাধিন, আমার বিশ্বাস আমরা ন্যায় বিচার পাবো।’ প্রসঙ্গত, শাহরাস্তি উপজেলার ঠাকুর বাজারস্থ নিজমেহার পাটোয়ারি বাড়ির মৃতঃ আলতাফ হোসেন পাটোয়ারির কনিষ্ঠ পুত্র লেঃ কর্নেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন কৃতি সেনা কর্মকর্তা ও স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। চাকুরি হতে অবসরে গিয়ে চট্রগ্রামে সপরিবারে থাকতেন।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under