প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ফরিদগঞ্জ , ব্রেকিং নিউজ

ধান বিক্রি করতে না পেরে ফরিদগঞ্জে ধানে আগুন দিয়েছে ক্ষুব্ধ কৃষক

person access_time 4 months ago access_time Total : 72 Views

আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফরিদগঞ্জ ঃ ফরিদগঞ্জে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে কষ্টার্জিত ধানে প্রেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষুদ্ধ কৃষক। এর আগে দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারী খাদ্য গুদামে। কিন্তু প্রতিবারই নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে কৃষককে। কৃষক-এর কাছ থেকে নয়, খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় করা হচ্ছে দালাল-সিন্ডিকেট-এর কাছ থেকে- অভিযোগ কৃষক-এর। মঙ্গলবার রাতে ধানে অগ্নি সংযোগের এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ১৫নং রূপসা ইউনিয়নের ভাটেরহ্রদ গ্রামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায়। ভূক্তভোগী কৃষক সহিদ উল্লা ও মো. মোশারফ-এর দাবী, তারা ১ম ধাপে রমজান মাসে স্থানীয় খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে যান। ওই ধানে আর্দ্রতা বেশী অজুহাতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা তাদের ফিরিয়ে দেন। এরপর তারা যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী আফরোজ-এর কাছে। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপে ধান ক্রয়ের সময় আসবেন, তখন দেখবো। দ্বিতীয় ধাপে ধান ক্রয় শুরু হলে গত কয়েকদিন পূর্বে তারা পুনরায় খাদ্য গুদামে

যান। এতে একইভাবে তাদের ধানে আর্দ্রতা বেশী বলে ধান ক্রয়ে অস্বীকৃতি জানান খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। কৃষকদের দাবী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম-এর পরামর্শ মোতাবেক রমজান মাসে রোজা রেখে আমাদের বউ-ঝিসহ কষ্ট করে ধান শুকিয়েছি। সেই ধান বিক্রয় করতে না পেরে ধান আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছি। তারা অভিযোগ করে বলেন, যতদিনই গুদামে গিয়েছি ততদিনই সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্রের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে দেখেছি। গোপন সমঝোতার মাধ্যমে চক্রের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানান, ওই দালাল চক্র কৃষকদের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় শত টাকা দরে ধান কিনে নিয়ে এক হাজার চল্লিশ টাকা দরে গুদামে ধান বিক্রি করে। এদিকে, ধানে অগ্নি সংযোগের ঘটনা স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেছেন, আমি যে কয়জন কৃষককে চিনি, তাদের কারও কাছ থেকে ধান কেনা হয়নি। তাহলে, কার কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি জানি না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, নিয়ম মেনে সরকারি খাদ্যে গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে কৃষক কর্তৃক ওই ধানে আগুন দেয়ার বিষয়টি জেনে আমি তাৎক্ষনিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ধানে অগ্নি সংযোগের খবর শুনে গতকাল বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার ও ধান ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব আশিক জামিল। এ সময় তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ধানে অগ্নি সংযোগের ঘটনার সত্যতা তিনি স্বীকার করে বলেছেন, যারা ধানে অগ্নি সংযোগ করেছেন তারা প্রকৃত কৃষক। সরকারী গুদামে ধান বিক্রয় করতে না পেরে এমন কাজ করেছেন বলে কৃষক তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। এ ব্যপারে গুদাম কর্মকর্তা সুমন কুমার বলেছেন, গুদামের বাইরে কে, কোথায় ধান পুড়িয়েছে, কেনো পুড়িয়েছে তা আমি জানি না এবং আমি কোনো দালালচক্র চিনি না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ১৫নং রূপসা (উত্তর) ইউনিয়নে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ ৫২ মেট্রিক টন। কতো মেট্রিক টন কেনা হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো তথ্য জানাতে পারেন নি। একাধীকবার প্রশ্ন করার পর, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলেও তিনি জানান। উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকাভূক্ত কৃষকদের কাছ থেকে নিয়ম মোতাবেক ধান ক্রয় করা হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। এদিকে, গত ৬ই জুলাই ইউএনও আলী আফরোজ সিন (ঝঊঊঘ) প্রশিক্ষণে ঢাকা গেছেন। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরোজ। গতকাল বুধবার বিকালে তিনি বলেন, ধানে অগ্নি সংযোগের খবর কৃষি অফিসারের মাধ্যমে শুনেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে আসেন নি। কিন্তু, আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন পূর্বে গুদামে ধান বিক্রয়ের জন্য আমার কাছে ৬ জন কৃষক এসেছিলেন। আমি ধান বিক্রয়ে তাদের যথাযথ সহায়তা দিয়েছি।

content_copyCategorized under