বিনোদন , ব্রেকিং নিউজ , চতুর্থ পাতা , জাতীয়

চাঁদপুরে নাটক প্রেমীদের মুগ্ধ করেছে বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর নতুন নাটক “ছিঃ”

person access_time 9 months ago access_time Total : 219 Views

স্টাফ রির্পোটার ঃ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সদস্য সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর গৌরবের ৪৫ বছর পথ চলার আনন্দে এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান দিবস উপলক্ষে ঙক ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ২ দিন ব্যাপি নতুন নাটক ছিঃ মঞ্চায়ন হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হয় নাটক “ছিঃ”। নাটক বিনিময়ে মৈত্রীর বন্ধন এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে সংগঠনের নিজস্ব নাট্যকার অরুন সরকারের রচনায় “ছিঃ” নাটকটি বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ৫১তম প্রযোজনা। এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং কোরিওগ্রাফী করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ চৌধুরী।
এদিকে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক “ছিঃ” দেখান জন্য ভিড় জমায় শিল্পকলাতে। নাটক প্রেমীরা জানান, বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ছিঃ দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। অনেক দিনপর এমন একটি প্রাণবন্ত নাটক দেখে খবুই ভালো লেগেছে। আমরা চাই চাঁদপুরে এভাবে অন্যান্য নাট্যগোষ্ঠি আমাদের নতুন নতুন বাস্তবমুখি নাটক আমাদের উপহার দিবেন।

 

সামাজিক নৈতিকতা নিয়ে এ নাটকটি রচিত হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন- শাহের সাব্বির, সাবিহা জান্নাত দিপা, কামরুজ্জামান শিশির, দেবব্রত সরকার বিজয়, নুরে আলম নয়ন, আল আমিন, জাফনুন নাহার পৃথা, প্রণব যোঘ, শানজানা চৌধুরী তান্হা, আসমা আক্তার, শরীফ চৌধুরী, শান্ত সূত্রধর, সাদিয়া রহমান ফাইজা, লিটন মাহমুদ, নাজমুল হোসেন বাপ্পি, কামরুল ইসলাম, বলাই চন্দ্র সরকার ও অরুন সরকার। আলোক পরিকল্পনায় শুকদেব রায়, মঞ্চ পরিকল্পনায় অজিত দত্ত নুরে আলম, আবহ সংগীত পরিকল্পনায় শানজানা চৌধুরী তান্হা, আবহ সংগীত নিয়ন্ত্রণে সিয়াম খান, পোশাক পরিকল্পনায় জাফনুন নাহার পৃথা ও সাবিহা জান্নাত দিপা, নৃত্য পরিচালনায় সাবিহা জান্নাত দিপা, প্রোডাকশন ম্যানেজার প্রণব ঘোষ। প্রযোজনা উপদেষ্টা শুকদেব রায়, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনা তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, তোফায়েল আহমেদ শেখ, বিচিত্রা সাহা, জিয়াউল আহসান টিটো, শাহজালাল টিংকু, এনায়েত উল্লাহ শিপুল, ফারজানা ইয়াছমিন কুমুকম ও আনোয়ার হোসেন জীবন। প্রযোজনা অধিকর্তা শরীফ চৌধুরী।

তরুণ নাট্যকার অরুন সরকার তার নাটকের কথামালায় লিখেছেন, আমরা আমাদের দুর্লভ মানবজীবনকে চন্দ্র সূর্য্য উদয় অস্তের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত সময়ের মধ্যে পার করে দিচ্ছি। আমাদের এই সীমিত জীবনের পরিসরে ভাল মন্দের কত ঘটনাই অবলীলায় সংঘটিত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষেরই কখনো ভাবার অবকাশ হয় না যে, কেন, কিসের কারণে এই ঘটনাগুলো সংগঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মপ্রান ব্যক্তি বিশেষ কিংবা জ্ঞানীজন বিভিন্ন ভাবে তা ব্যাখ্যা করেছেন। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মানুষের জীবনকে বিশ্লেষন করলে দেখা যায় অতি মন্দ লোকও কখনো কখনো অতি মহান কাজের কর্মী হয়ে আছেন, আবার অনেক অতি উত্তম লোকও মন্দ কাজের কর্মী হয়ে আছেন। এই দ্বৈত স্বত্বার কারণ কি? আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন জ্ঞানীজনের সংশ্রবে উপলদ্ধ বিষয়টিকেই এই নাটকের উপজীব্য বিষয় হিসাবে আনয়ন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমার সেই ভাবনার বিষয় হল-মানুষ প্রধানত ৩টি বিষয়কে সদা সর্বদা নিজের অজান্তে আশ্রয় পশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা হল কাম, ক্রোধ ও লোভ। এই তিনটি ক্ষতিকর গুনের এক বা একাধিক কিংবা সবগুলোই একটি মানুষের মধ্যে থাকে এবং তার প্রভাবে মানুষ প্রভাবিত ক্ষতিকর গুনের আদলে কার্য সংগঠিত করতে পারে। জীবন এমন কোন দুষ্কার্যই সংগঠিত হয় না যা এই তিনটি ক্ষতিকর গুনরহিত।

মহান ব্যক্তিগন সদা সর্বদা এই তিনটি বিষয়ে সংযত করে রাখার প্রয়াস করে থাকেন। যখন সম্পূর্ণরূপে এই তিনটি ক্ষতিকর গুন থেকে মানুষ মুক্ত হতে পারে তখন তাকে আমরা অতিমানব বলে থাকি অর্থাৎ এই তিনটি ক্ষতিকর গুনের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়াই আমাদের জীবনের চরম লক্ষ্য হওয়া বলে আমি মনে করি। নয়তো আমার প্রকৃত ধার্মিক হতে পারি না, প্রকৃত মানব প্রেমী হতে পারি না, কিংবা ঈশ^রপ্রেমীও হতে পারি না। অর্থাৎ ভোগ বস্তুর স্বাধকে পরিত্যাগ করতে হবে, ভোগ্য বস্তুকে নয়। যখন স্বাধ থেকে মুক্ত হব তখনই ভোগ্য বস্তুতে অনীহা আপনি আপনি চলে আসবে কিন্ত ভিতরে স্বাধকে পোষন করে ভোগ বস্তু ত্যাগ করলেও সুযোগ পেলেই মানুষ স্বাধের আশ^াদনে ভোগ বস্তর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে এবং যে কোন অনৈতিক কার্য সংগঠিত হয়ে যাবে।
এই নাটকটিতে সেই ক্ষতিকর তিনটি গুন কিভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে এবং করে তারই চেষ্টা করেছি মাত্র। পৃথিবীতে স্পষ্ট দৃশ্যমান একজন অতিস্বজ্জন, সৎ পরোপকারী লোক তিনটি গুনের একটির প্রভাবে কিভাবে কতটুকু অনৈতিক কাজ করছে তারই চিত্রায়ন করা হয়েছে, তার কারণ ঐ ব্যক্তি ভোগ্য বিষয়কে ত্যাগ করলেও ভোগের বীজ তার অন্তরে গুপ্ত ভাবে নিহিত ছিল যা দুষ্কার্যকারী ব্যক্তিরও বোধগম্য ছিল না।

content_copyCategorized under