প্রথম পাতা , শীর্ষ খবর , ব্রেকিং নিউজ , জাতীয়

আজ বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ

person access_time 1 week ago access_time Total : 7 Views

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ফাল্গুনী হয়ে এসো ফাগুন মাসে আর বৈশাখী হয়ে এসো বৈশাখ মাসে। আর তাই যে যাই বলুক না কেন আজ বাঙালীর প্রাণের উৎসব বৈশাখ। বিদায় নিচ্ছে ১৪২৫, স্বাগত তোমায় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। চির নতুনের ডাক দিয়ে, চির কল্যাণের প্রত্যাশায় এসেছে বাংলা নববর্ষ। গতকাল শনিবার মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়েছে আরো একটি চৈত্র। আরো একটি বাংলার বছর কিংবা তরুণদের কাছে আরো একটা বসন্ত। বসন্ত পেরিয়ে গেলেও পেলাম না মনের মানুষ অবস্থাটা অনেকটা এরকমই হয় বলে অনুভব করে অনেক তরুন তরুনীরা কিংবা যুবকেরা। জনকামনা এই যে, এর সাথে সাথেই দুঃখ-কষ্ট, জ্বরা-ব্যাধি দূর হয়ে সুখ-আনন্দের জোয়ার বয়ে যাবে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে। আজ পহেলা বৈশাখ তাই সরকারি ছুটির দিন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবে দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে বসবে বৈশাখী আমেজের এক নতুন আনন্দ মানুষের হৃদয়ে বয়ে যাবে বৈশাখী আনন্দের ঢেউ। সবাই একাকার হয়ে যাবে। সবার মন আকুপাকু করবে একটু পান্তা ইলিশ । কিন্তু ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় পান্তা ইলিশের পরিবর্তে বিভিন্ন পদের ভর্তা আর পান্তাসহ নানান খাবারের সন্ধ্যানে এইপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। নববর্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাজের জঞ্জাল সরাতে ঘোষণা করেছেন নতুনের মহত্তম আহবান ‘ঐ নূতনের কেতন উড়ে——- তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’ রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ বাংলা নববর্ষকে দাওয়াত করেন আরো প্রত্যয়মগ্ন হয়ে গভীর আকুলতায় ‘অগণ্য অসংখ্য বাধা ওড়ায়ে প্রবল কণ্ঠে/কুলি পুরুষ হুংকার, হে বৈশাখ এসো—–।’ বর্ষচক্রের ছন্দবদ্ধ অনুক্রম ধারায় নতুন বছর আসে এবং যথাসময়ে তা অতীত হয়ে যায়। রেখে যায় কত না বিচিত্র প্রতিচ্ছবি, কত অযুত কথা-কাহিনী! বাঙালী জীবনে বর্ষ শুরুর দিনটি যুগ-যুগান্ত থেকে আগত এক অত্যাজ্য মানস সংস্কার ও অভিনব ভাব প্লাবন বয়ে নিয়ে আসে। এ দিনটি যে কেবল জ্যোতির্বিদ্যা নিরুপিত পৃথিবীর আহ্নিক গতির ওপর নির্ভরশীল একটি দিন তা নয়। আমাদের জীবন চেতনা এবং স্বকীয় সংস্কৃতির পরিচয়ও বটে। যদিও অপসংস্কৃতি চর্চার বাড়াবাড়িতে বাঙালীর এই আদরণীয় এই দিনটি প্রায় ফসিল হয়ে এসেছে। সান্ত¡না এই যে, তিনশ’ চৌষট্টি দিন নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, একটি দিনের আহবান চিরায়ত বাংলায় জেগে আছে সাড়ম্বরে। বাংলা নববর্ষ বাঙালীদের মনেপ্রাণে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। কারণ বাংলা সাল হিজরী সালেরই বংশধর। ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশ ভূ-খন্ডে ইসলামী শাসন কায়েম হয়েছে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গ বিজয় কাল থেকে। সে সময় এ দেশে ইসলামী সভ্যতার স্মারক হিজরী সালের প্রতিষ্ঠা হয়। পরবর্তীতে ‘খাজনা’ আদায়সহ রাজকার্যের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবর হিজরীর পাশাপাশি বাংলা সালের প্রবর্তন করেন এবং অগ্রহায়ণের পরিবর্তে বৈশাখ থেকে বর্ষ গণনা শুরু করেন। বাংলা মাস পায় রাজকীয় মর্যাদা। এর আগে এই ভূ-খন্ডে মহাধুমধামের সাথে ‘নওরোজ’ উৎসব পালিত হতো। বাংলা সালের গননা শুরু হয় ঈসায়ী ১৫৫৬ সালের ১১ এপ্রিল থেকে। তবে আমাদের দেশে সরকারিভাবে বাংলা সাল-তারিখ ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কিন্তু বাঙালীর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এর ব্যাপক প্রভাব অনস্বীকার্য। ব্যবসা-বাণিজ্যে বছরের শেষ দিন ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ এবং লাভ-লোকসানের হিসাব নিকাশ মিটিয়ে ‘হালখাতা (লাল মলাটের নতুন খাতা)’ খোলার রীতি নববর্ষ উৎসব উদযাপনের সাথে স্মরণাতীতকাল থেকে সম্পৃক্ত হয়ে আছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সবচেয়ে বড় দিকটি হলো বৈশাখী মেলা। চাঁদপুরসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবে বৈশাখী মেলা। কালের বিবর্তনে এই মেলার আবহ ও বিস্তৃতি বহুদূর এগিয়েছে। এখন আর কেই হাতের লেখায় জানাতে চায় না যে শুভ নববর্ষ। এখন মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে ছোটখাটো এক ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে জানানা দেয় শুভ নববর্ষ। আর এই ইন্টারনেটের যুগে এসে অনেকেই ই-মেইল করে জানাতে চাই শুভ নববর্ষ এসেছে। আর ইন্টারনেটের বদৌলতে সবাই এখন ফেসবুকের মাদ্যমে জানাচ্ছে নববর্ষের বর্নিল আমেজে নীল শুভেচ্ছা।

শেয়ার করুনঃ
content_copyCategorized under